ব্যালন ডি’অর জেতার দাবি কিলিয়ান এমবাপের
বড় কোনো ট্রফি না জিতলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও রেকর্ডের ওপর ভিত্তি করে ব্যালন ডি’অর জেতার দাবি জানিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপে। ২৭ বছর বয়সি এই ফরাসি ফরোয়ার্ড গত মৌসুমে চ্যাম্পিয়নস লিগ ও লা লিগায় নিজের দারুণ সাফল্যের কথা তুলে ধরেছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপে দাবি করেছেন যে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স ও রেকর্ডের বিচারে এবার ব্যালন ডি’অর পাওয়ার যোগ্য তিনিই। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, বড় কোনো ট্রফি জিততে না পারলেও নিজের অর্জনের পক্ষে জোরালো যুক্তি তুলে ধরেছেন এই ফুটবলার।
নিজের দাবি সম্পর্কে বলতে গিয়ে কিলিয়ান এমবাপে বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, এ বছর আমি এটি জিততে পারি। এটি আমার অন্যতম লক্ষ্য। মানুষ বলে, আমি কোনো ট্রফি জিতিনি। কিন্তু এটি তো ব্যক্তিগত পুরস্কার। আমি কখনো দেখিনি কোনো ব্যালন ডি’অর বিজয়ী সর্বসম্মতভাবে নির্বাচিত হয়েছে।’
এমবাপে আরও যোগ করেন, ‘কেউ কি কখনো ১০০ শতাংশ ভোটে ব্যালন ডি’অর জitesা? এর অর্থ হলো, সবসময়ই এমন কেউ থাকেন, যিনি মনে করেন বিজয়ী এই পুরস্কার পাওয়ার যোগ্য ছিলেন না।’ নিজের অর্জনের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ‘গত মৌসুমে আমার চেয়ে ভালো ফুটবল কেউ খেলেনি। ব্যালন ডি’অর জেতার মতো সব যুক্তিই আমার পক্ষে আছে; যেমন ধরুন, বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গোল এখন আমার।’
ব্যালন ডি’অর নিয়ে নিজের ধারণার বিষয়ে এমবাপে বলেন, ‘ব্যালন ডি’অর নিয়ে আমার ধারণা তৈরি হয়েছে মেসি ও রোনালদোর যুগ দেখে। আপনি সাধারণ খেলোয়াড়কে এই পুরস্কার দেবেন না; দেবেন এমন খেলোয়াড়কে, যে অন্যদের চেয়ে আলাদা। আমার মনে হয়, এ বছর আমি এমন কিছু করেছি, যা আলাদা। তাই আমি বিশ্বাস করি, আমি এটি জিততে পারি।’ একপর্যায়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘আমার চেয়ে ভালো কোনো খেলোয়াড় ছিল না।’
মাঠের পারফরম্যান্সের পরিসংখ্যান তুলে ধরে জানা যায়, রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ১৫টি এবং লা লিগায় ২৫টি গোল করেছেন এমবাপে। এ ছাড়াও ২৭ বছর বয়সি এই তারকা বিশ্বকাপের ইতিহাসে মোট ২২ গলের মালিক হয়েছেন এবং এক আসরে সর্বোচ্চ ১০ গোল করার রেকর্ড গড়েছেন। উল্লেখ্য, ফ্রান্স দল বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় এবং জিনেদিন জিদান দিদিয়ের দেশমের জায়গায় ফ্রান্স জাতীয় দলের দায়িত্ব নিয়েছেন।
নিজের রেকর্ড প্রসঙ্গে এমবাপে আরও বলেন, ‘আমরা অর্জনের কথা বলছিলাম। বড় প্রতিযোগিতাগুলোতে এত গোল করা, যেখানে বিশ্বের সব বড় খেলোয়াড় থাকে; আর অবশ্যই বিশ্বকাপে, সবচেয়ে বড় মঞ্চে, সেই প্রতিযোগিতার ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া- আমার পুরো ছুটির সময় মানুষ আমার সঙ্গে এসব নিয়েই কথা বলেছে।’
বিশ্বকাপের মঞ্চের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ কী বোঝায়, সেটা পুরোপুরি উপলব্ধি করা কঠিন। এটি বড় খেলোয়াড়, তারকা এবং ফুটবল ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়দের প্রতিযোগিতা। আর ২৭ বছর বয়সেই আপনি যখন নিজেকে বলতে পারেন, এই প্রতিযোগিতায় আমিই সবচেয়ে বেশি গোল করেছি- এটা বিশেষ কিছু।’
লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর প্রসঙ্গ টেনে এমবাপে বলেন, ‘আরও বিশেষ বিষয় হলো, আপনি এই রেকর্ডটি লিওর কাছ থেকে নিয়েছেন। অনেকের কাছেই ক্রিশ্চিয়ানোর সঙ্গে মেসিই ইতিহাসের সেরা খেলোয়াড়। এমন অর্জন সত্যিই আলাদা।’
এ সময় ফরাসি ফুটবলের কিংবদন্তি জিনেদিন জিদানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এমবাপে। জিদান সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘ফরাসিদের কাছে তিনি অনেক কিছু। তিনি একজন কিংবদন্তি। তিনি আমাদের দেশের “জিজু”- তিনি কমনীয়তা ও মহত্ত্বের প্রতীক। খেলোয়াড় হিসেবে জাতীয় দলের ইতিহাসে তার অসাধারণ অবদান রয়েছে এবং তিনি কিছু অবিস্মরণীয় মুহূর্ত উপহার দিয়েছেন।’
জিদানের অবদান আরও বিস্তৃত করে এমবাপে বলেন, ‘সম্ভবত ফ্রান্স দলকে সবচেয়ে বেশি ধারণ করেন এমন খেলোয়াড় তিনিই। তিনি সেই খেলোয়াড়দের একজন, যিনি প্রজন্মের সীমা ছাড়িয়ে গেছেন। ফরাসি ফুটবলের ইতিহাসে তিনি এমন একটি ছাপ রেখে গেছেন, যা কখনো মুছে যাওয়ার নয়।’








