ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণে সরকারি উদ্যোগ
বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত থাকা ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক শৃঙ্খলায় আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে নিবন্ধনের পাশাপাশি নির্দিষ্ট রুট নির্ধারণ ও গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে কোনো ধরনের নির্ভরযোগ্য জাতীয় নিবন্ধন ছাড়াই ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ইজিবাইক ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মূলত কোনো নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ বা শৃঙ্খলার মধ্যে না থেকেই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এসব যান চলাচল করে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে এসব যান নিয়ন্ত্রণে একটি নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার।
দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা এসব যানের সঠিক কোনো পরিসংখ্যান বা নির্ভরযোগ্য জাতীয় রেজিস্ট্রি না থাকায় এতদিন এ খাতের প্রকৃত চিত্র পাওয়া কঠিন ছিল। তবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার তথ্যানুযায়ী, এই খাতের পরিধি যে বেশ বড়, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ডের প্রাক্কলন অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ ব্যাটারিচালিত রিকশা এবং ইজিবাইক রয়েছে। বিপুল পরিমাণ এই যানের কারণে যেমন একদিকে কর্মসংস্থান ও যাতায়াতের সুবিধা হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি দেখা দিয়েছে নানা ধরনের ব্যবস্থাপনাগত জটিলতা।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং খাতটিকে একটি নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে আনতে সরকার বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব পেশ করেছে। প্রস্তাবিত এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে সম্পূর্ণ খাতটিকে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সরকারের প্রস্তাবিত ব্যবস্থার মধ্যে রয়েছে অনুমোদিত কারখানা নির্দিষ্ট করে দেওয়া এবং এসব যানের জন্য আনুষ্ঠানিক নিবন্ধন ও লাইসেন্স চালু করা। এর পাশাপাশি যানগুলোর জন্য নির্দিষ্ট রুট বা চলাচলের পথ নির্ধারণ করে দেওয়ার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া যত্রতত্র এসব যানের সংখ্যা বৃদ্ধি রোধ করতে এবং যানজট ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে গাড়ির সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করার পরিকল্পনাও রয়েছে। সার্বিকভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক খাত একটি নিয়মের মধ্যে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।








