বৈশ্বিক বন্ড বাজারে অস্থিরতা, বেড়ে গেছে সরকারি ঋণ নেওয়ার খরচ
বিশ্বজুড়ে বন্ড বাজারে দেখা দিয়েছে তীব্র অস্থিরতা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ডেটা সেন্টারের জন্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর রেকর্ড ঋণ নেওয়ার কারণে বহু দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে সুদের হার।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বৈশ্বিক বন্ড বাজারে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং এর ফলে বাড়ছে সরকারি ঋণ নেওয়ার খরচ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাত, কৌশলগত হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকা এবং বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমবর্ধমান ঋণগ্রহণের মতো বিভিন্ন কারণ এর পেছনে দায়ী।
বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ডেটা সেন্টার নির্মাণের জন্য বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর বিপুল পরিমাণ অর্থ প্রয়োজন হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে বন্ড বাজারে সুদের হার বহু দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বা হাইপারস্কেলারগুলো এই বছর ইতিমধ্যেই রেকর্ড পরিমাণ ঋণ ইস্যু করেছে। গুগল, অ্যামাজন এবং মেটার মতো শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি জায়ান্টগুলো চলতি বছরে এ পর্যন্ত ২১৯ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি ঋণ নিয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় বিশাল অংকের সমতুল্য।
প্রযুক্তি খাত থেকে এই ঋণের পরিমাণ অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। গত বছর এসব প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ ইস্যুর পরিমাণ ছিল ৯৩ বিলিয়ন ডলার। আর তারও আগে প্রতি বছর গড়ে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৪০ বিলিয়ন ডলারের কম।
বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, চলতি বছরে বন্ড বাজার থেকে প্রযুক্তি জায়ান্টগুলোর মোট ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ৪০০ থেকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকতে পারে। প্রযুক্তি খাতের এই রেকর্ড পরিমাণ অর্থ সংগ্রহের চাপ বৈশ্বিক আর্থিক বাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
বন্ড বাজারের এই সামগ্রিক উত্তাপের প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন দেশের জাতীয় অর্থনীতিতেও। এর সরাসরি প্রতিফল হিসেবে যুক্তরাজ্যের দীর্ঘমেয়াদী সরকারি ঋণ নেওয়ার খরচ ১৯৯৮ সালের পর থেকে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। আগামী অক্টোবরের বাজেটকে সামনে রেখেই এই রেকর্ড ব্যয় বৃদ্ধির ঘটনা ঘটল।
বিশ্ব অর্থনীতির এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নীতি নির্ধারক ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে আলোচনা চলছে। বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনস্বার্থ এবং বাজার ব্যবস্থাপনার ভারসাম্য নিয়ে নানা মহলে মতবিনিময় অব্যাহত রয়েছে।








