বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প ঝুলে আছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এনওসিতে
টেলিকম ও টেকনোলজি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিআরএনবি) আয়োজিত এক কর্মশালায় জানানো হয়, দেশের প্রথম বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পটি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এনওসির অপেক্ষায় রয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ বেশ কয়েকটি সরকারি দপ্তর ও বিভাগ থেকে এর অনাপত্তি ও ছাড়পত্র পাওয়া গেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ৩১ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:১৬· ১ মিনিট পড়া

টেলিকম ও টেকনোলজি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (টিআরএনবি)-এর আয়োজনে ২০২৪ সালের ৩১ আগস্ট ঢাকার অদূরে একটি রিসোর্টে দেশের টেলিকম খাতের বর্তমান অবস্থা এবং বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্প নিয়ে একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কর্মশালায় টেলিকম খাতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, পরিসংখ্যান এবং প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মশিউর রহমান, মাহমুদ শাহেদ, আহমেদ জুনায়েদ, মোহাম্মদ আমিনুল হাকিম, মাসুদুজ্জামান রবিন ও ফারুক হোসাইন।
কর্মশালায় জানানো হয়, দেশের প্রথম বেসরকারি সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পটি বর্তমানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এনওসির (অনাপত্তি পত্র) অপেক্ষায় রয়েছে। তবে এই প্রকল্পের পক্ষে ইতোমধ্যে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে অনাপত্তি ও ছাড়পত্র পাওয়া গেছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এছাড়া সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় থেকেও প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র সংগ্রহ করা হয়েছে। সিডিনেট কমিউনিকেশনস লিমিটেড ও মেটাকোর সাবকম লিমিটেড এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।
প্রকল্পটির অগ্রগতির বিষয়ে কর্মশালায় জানানো হয় যে, ২০২৪ সালের প্রথম দিকেই সমুদ্রপথের রুট সার্ভে বা জরিপের কাজ পুরোপুরি শেষ হয়েছে। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের শেষ দিকে ক্যাবল স্থাপনের কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে নির্ধারিত সময় অনুযায়ী জানা গিয়েছিল যে, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে এ সেবা গ্রাহক পর্যায়ে পৌঁছানোর কথা ছিল।
ব্যান্ডউইথ খরচ ও দামের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে কর্মশালায় বলা হয়, সরকারি সাবমেরিন ক্যাবল এসএমডব্লিউ-৫-এর মাধ্যমে ব্যান্ডউইথ পেতে প্রতি টেরাবিটে খরচ হয় প্রায় ২৪ দশমিক ৪ মিলিয়ন ডলার। অথচ বেসরকারি এ ক্যাবলে একই পরিমাণ ব্যান্ডউইথের খরচ হবে মাত্র ৪ দশমিক ২ মিলিয়ন ডলার। এই ব্যবধানের কারণে ভবিষ্যতে ইন্টারনেটের দাম বর্তমানের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি ইন্টারনেট সেবার মান বা কিউওএস অন্তত ২৫ শতাংশ বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
দেশে ইন্টারনেট চাহিদার অপ্রতুলতার চিত্র তুলে ধরে বলা হয়, ২০২৬ সাল নাগাদ দেশে ব্যন্ডউইথের চাহিদা হবে ১৩ দশমিক ৫ টেরাবিট। অথচ বর্তমানে দেশে বিদ্যমান সরকারি ক্যাবলগুলো থেকে জোগান পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৭ দশমিক ১ টেরাবিট। ফলে ২০২৬ সালেই দেশ ৬ দশমিক ৪ টেরাবিট ব্যান্ডউইথ ঘাটতির মুখে পড়বে। শুধু তাই নয়, এই ব্যান্ডউইথ ঘাটতি পরবর্তীতে আরও বেড়ে গিয়ে ২০২৮ সালে ১৯ দশমিক ৯ টেরাবিটে দাঁড়াতে পারে।
ইন্টারনেটের ঘাটতি ও ধীরগতির নেতিবাচক প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে কীভাবে পড়ছে, তাও কর্মশালায় বিশদভাবে তুলে ধরা হয়। সেখানে জানানো হয় যে, ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে আইসিটি খাতে প্রায় ১৫ শতাংশ কর্মসংস্থানের সুযোগ নষ্ট হচ্ছে। এছাড়া ধীরগতির এই ইন্টারনেটের কারণে দেশের বার্ষিক জিডিপি প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৫ থেকে ১ দশমিক ২ শতাংশ পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।








