বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ পর্যন্ত সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত
কাঁচামাল ও উৎপাদন খরচ বাড়ায় আগামী ১২ সেপ্টেম্বর থেকে হস্তচালিত বেকারির পণ্যের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানো হবে অথবা দাম ঠিক রেখে ওজন কমানো হবে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

অব্যাহতভাবে উৎপাদন খরচ ও কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশের হস্তচালিত বেকারির পণ্যের দাম সমন্বয় বা ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আগামী ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে। এর আগে গত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজকে দেওয়া তথ্যে বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন জানান যে, তারা দাম বাড়ানোর কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেননি, তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় সবাই মিলে দাম সমন্বয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, দাম বাড়লে তা ২০ শতাংশ হারে বাড়ানো হবে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে দাম অপরিবর্তিত রেখে পণ্যের ওজন কমানোর মাধ্যমেও এই সমন্বয় করা হবে। উদাহরণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, ১০ টাকার রুটি ১০ টাকাই থাকবে, তবে যেটি আগে ৪০০ গ্রাম ছিল, সেটি হয়তো ৩৫০ গ্রাম বা ৩২০ গ্রাম করা হবে।
উৎপাদন খরচ বৃদ্ধির মূল কারণ ব্যাখ্যা করে সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন জানান, গত ছয় মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাঁচামালের দাম মাত্রাতিরিক্তভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ থেকে ৩০ টাকার আটা বেড়ে ৪২ টাকা হয়েছে। এছাড়া তিন হাজার টাকার ময়দার বস্তা বেড়ে পাঁচ হাজার ৬০০ টাকা হয়েছে এবং ২৫ হাজার টাকার ড্রামের তেল বেড়ে ৩৬ হাজার টাকায় দাঁড়িয়েছে।
কাঁচামালের এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি গ্যাস ও বিদ্যুতের সমস্যা এবং অন্যান্য বাড়তি খরচের কারণে বেকারি মালিকরা মারাত্মক সংকটে পড়েছেন বলে উল্লেখ করেন জালাল উদ্দিন। তিনি প্রশ্ন রাখেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা আর কী করতে পারেন এবং কর্মচারীরা কীভাবে না খেয়ে বেঁচে থাকবে। তিনি জানান যে, অতিরিক্ত খরচের চাপে তারা আর টিকতে পারছেন না।
বেকারিগুলো বন্ধ হয়ে গেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে সমিতির সভাপতি জালাল উদ্দিন পরিষ্কার করেন যে বেকারিগুলো বন্ধ হয়নি, তবে তারা বাধ্য হয়ে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগে যিনি পাঁচ বস্তা ময়দার কাজ করতেন, তিনি এখন উৎপাদন কমিয়ে তিন বস্তায় চলে এসেছেন। সার্বিকভাবে বর্তমানে ক্ষুদ্র বেকারিগুলোর উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে গেছে।
বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাঁচামাল যেমন আটা, ময়দা ও তেলের দাম এবং গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সামগ্রिक উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব বহুমুখী চাপের মুখেই এই মূল্য সমন্বয়ের পথ বেছে নিতে হয়েছে।
উল্লেখ্য, বর্তমান পরিস্থিতিতে সারা দেশের ক্ষুদ্র বেকারি মালিকরা এই চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সারা দেশে প্রায় সাত হাজার ক্ষুদ্র বেকারি রয়েছে। এর মধ্যে কেবল রাজধানী ঢাকাতেই রয়েছে সাত শতাধিক ক্ষুদ্র বেকারি, যেগুলোর ওপর ভিত্তি করে বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। আগামী শনিবার থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার পর বাজারে এর প্রভাব পড়বে।








