বিজ্ঞান প্রকাশনায় বাড়ছে বাণিজ্যিক চাপ ও খরচের বোঝা
ওপেন-অ্যাক্সেস বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে নিবন্ধ প্রকাশের উচ্চ ফি এবং ত্রুটিপূর্ণ মূল্যায়ন পদ্ধতি গবেষকদের জন্য বড় আর্থিক বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের গবেষকেরা এতে বেশি বিপাকে পড়ছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বিজ্ঞান প্রকাশনার বাণিজ্যিকীকরণ এবং উচ্চ মাত্রার আর্টিকেল প্রসেসিং চার্জ বা এপিসি (APC) গবেষকদের জন্য একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে ওপেন-অ্যাক্সেস বৈজ্ঞানিক সাময়িকীতে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোর গবেষকদের বড় ধরনের আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। বাংলাদেশের গবেষকেরাও এই বৈশ্বিক সমস্যার বাইরে নন, বরং তাদের জন্য এটি অত্যন্ত বড় একটি আর্থিক বাধা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
বর্তমান একাডেমিক মূল্যায়ন ব্যবস্থায় গবেষকদের কাজের মান যাচাইয়ের জন্য ত্রুটিপূর্ণ মেট্রিকস বা সূচক ব্যবহার করা হয়, যা এই বাণিজ্যিক ব্যবস্থাকে আরও উৎসাহিত করছে। এই ত্রুটিপূর্ণ কাঠামোর কারণে গবেষকেরা মর্যাদাপূর্ণ জার্নালে লেখা প্রকাশ করতে বাধ্য হন, যেখানে প্রকাশের খরচ আকাশচুম্বী। ফলে মেধার চেয়ে গবেষকের আর্থিক সক্ষমতা অনেক সময় বড় হয়ে দাঁড়ায়।
বাণিজ্যিক প্রকাশনার এই বাস্তবতায় বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠিত প্রকাশনা সংস্থাগুলোর উচ্চ ফি নিয়ে নানা আলোচনা রয়েছে। এই খাতের বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেখা যায়, অনেক ক্ষেত্রে একটিমাত্র গবেষণাপত্র প্রকাশের জন্য প্রায় ৯ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত খরচ হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অঙ্কের পরিমাণ ১১ লাখ টাকার বেশি।
বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞান সাময়িকীগুলোতে খরচের এই তারতম্য গবেষকদের বাজেটকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করে। কিছু ক্ষেত্রে প্রকাশনা ফি ৩ হাজার ২৮০ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে। অন্যদিকে তুলনামূলক কম খরচের বা বিকল্প কিছু সুযোগের ক্ষেত্রে ৬৮০ ডলারেও গবেষণাপত্র প্রকাশের নজির রয়েছে, যা সামগ্রিক প্রকাশনা ব্যবস্থার চড়া খরচের চিত্রটি ফুটিয়ে তোলে।
এই উচ্চ খরচের অভিজ্ঞতা বাস্তবেও প্রতিফলিত হয়েছে। এই প্রবন্ধ বা মতামতের লেখক নিজেই বিশ্বখ্যাত শীর্ষস্থানীয় প্রকাশক সংস্থার জার্নালে গবেষণাপত্র প্রকাশ করতে গিয়ে এই পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। লেখক ওয়াইলি-ভিসিএইচ (Wiley-VCH) এর স্মল (Small) এবং সেল প্রেস (Cell Press)-এর আইসায়েন্স (iScience) নামক শীর্ষস্থানীয় দুটি গবেষণা জার্নালে দুটি গবেষণাপত্র সফলভাবে প্রকাশ করেছেন।
তবে এই ধরনের স্বনামধন্য ও শীর্ষস্থানীয় জার্নালে গবেষণা প্রকাশ করতে গিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশের গবেষকদের যে আর্থিক ও কাঠামোগত লড়াই করতে হয়, তা এই বৈষম্যমূলক প্রকাশনা ব্যবস্থারই প্রতিফলন। ওপেন-অ্যাক্সেস নীতির আড়ালে চলা এই বাণিজ্যিকীকরণ রোধ করা না গেলে বিজ্ঞানের অগ্রগতি ও জ্ঞানচর্চা থেকে উন্নয়নশীল দেশের গবেষকেরা ক্রমান্বয়ে পিছিয়ে পড়বেন।








