বাবার মৃত্যুর পর ইন্টার মায়ামিতে দ্রুত ফিরলেন লিওনেল মেসি
বাবার মৃত্যুর চারদিনের মাথায় ইন্টার মায়ামিতে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনায় মারা যান তার বাবা হোর্হে মেসি। ১২ আগস্ট ক্লাবে ফিরে তিনি খেলায় অংশ নেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

আর্জেন্টাইন ফুটবলের মহাতারকা লিওনেল মেসির জীবনে নেমে এসেছে গভীর শোক। গত ৮ আগস্ট আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি হাসপাতালে মারা গেছেন তার বাবা হোর্হে মেসি। এই শোকাচ্ছন্ন পরিস্থিতিতেও পেশাদার ফুটবলার হিসেবে নিজের চরম দায়িত্ববোধের পরিচয় দিয়েছেন মেসি। বাবার মৃত্যুর শোক কাটিয়ে দ্রুততম সময়েই তিনি নিজের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে ফিরে আসেন।
পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনের এই অপূরণীয় ক্ষতির মাত্র চার দিন পর, অর্থাৎ ১২ আগস্ট ইন্টার মায়ামি ক্লাবে ফেরেন লিওনেল মেসি। ক্লাবে ফেরার পরপরই তিনি দলের সঙ্গে অনুশীলনে যোগ দেন এবং প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নেমে পড়েন। প্রিয় অভিভাবককে হারানোর এই শোকের মধ্যেও তিনি দলের প্রতি নিজের অবিচল আনুগত্য বজায় রেখেছেন।
ক্লাবে ফেরার পর লিগস কাপে লিওনের বিপক্ষে ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন ৩৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড। এরপর গত শনিবার জিওডিস পার্কে ন্যাশভিলে এসসির বিপক্ষে ৪-১ গোলে হেরেছে মায়ামি। এই ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন মেসি। দলের কঠিন সময়েও তার এই মাঠে উপস্থিতি এবং লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা ফুটবল বিশ্বে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মেসির এই পেশাদারিত্ব ও মানসিক শক্তির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন ফুটবল অঙ্গনের অনেকেই। তার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে গুইলেরমো হোয়োস বলেছেন, "তাকে দেখতে ভালো লাগছে, মাঠে সে নিজেকে মেলে ধরছে, এমন একটি জায়গা যা তার ভালোভাবে চেনা, এবং সে শান্তিতে আছে।"
মেসির এমন অবিশ্বাস্য দায়বদ্ধতা নিয়ে কাসেমিরো গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করে বলেছেন, "সে দারুণ দৃষ্টান্ত তৈরি করে। সর্বোপরি, সে নিশ্চিতভাবে খুব কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সে শুধু খেলোয়াড়দের প্রতিই নয়, ক্লাবের প্রতি যে দায়বদ্ধতা দেখিয়েছে, তা অসাধারণ। আমি আমার জীবনে এমন কিছু দেখিনি। তাকে আমাদের ধন্যবাদ দিতে হবে। এখানে আসার জন্য, আমাদের ও ক্লাবকে সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ।"
বাবার প্রয়াণের মতো বড় একটা শোক সামলে যেভাবে লিওনেল মেসি ক্লাবের টানে মাঠে ফিরেছেন এবং দলের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তা বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে এক বিরল উদাহরণ হয়ে রইল। ইন্টার মায়ামির হয়ে তার এই লড়াই শুধু একটি ক্লাবের ম্যাচ নয়, বরং কঠিন পরিস্থিতিতেও একজন ক্রীড়াবিদের শতভাগ নিবেদনের এক অনন্য প্রকাশ।








