বাংলাদেশের অর্থবছর জুলাই–জুনের বদলে এপ্রিল–মার্চ করার সিদ্ধান্ত
বাংলাদেশের বর্তমান অর্থবছর জুলাই–জুন থেকে পরিবর্তন করে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা। ২০২৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসের অন্তর্বর্তী অর্থবছর শেষে ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে নতুন পূর্ণাঙ্গ অর্থবছর শুরু হবে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

১৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বাংলাদেশের অর্থবছর পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বর্তমান অর্থবছর যা এতদিন ১ জুলাই শুরু হয়ে ৩০ জুন শেষ হতো, তা পরিবর্তন করা হচ্ছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে বাংলাদেশের অর্থবছর হবে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত।
এই পরিবর্তন বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা ও রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের জুলাই থেকে ২০২৮ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত ৯ মাসের একটি অন্তর্বর্তী অর্থবছর থাকবে। এরপর ২০২৮ সালের ১ এপ্রিল থেকে নতুন ব্যবস্থার প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থবছর শুরু হবে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ এবং অর্থ বিভাগ যুক্ত রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থবছরের এই ইতিহাস বেশ দীর্ঘ এবং ঔপনিবেশিক আমলের সঙ্গে জড়িত। ১৮৬০ সালের ৭ এপ্রিল ব্রিটিশ ভারতের প্রথম আনুষ্ঠানিক বাজেট পেশ করেছিলেন গভর্নর জেনারেলের কাউন্সিলের অর্থ সদস্য জেমস উইলসন। ওই সময় ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৮৬৭ সাল থেকে মে–এপ্রিলের পরিবর্তে এপ্রিল–মার্চ অর্থবছর ব্রিটিশ ভারতে চালু করা হয়েছিল।
এরপর পাকিস্তান আমলের শেষ দিকে এসে এই নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়। ১৯৫৯ সালে আইয়ুব খানের সামরিক সরকার এপ্রিল–মার্চের পরিবর্তে জুলাই–জুন অর্থবছর চালু করেছিল, যা এতদিন স্বাধীন বাংলাদেশেও প্রচলিত ছিল। দীর্ঘ সময় পর সেই পুরনো ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বর্তমান প্রশাসন।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল বা আইএমএফের তথ্য অনুযায়ী, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেও এই পরিবর্তনের একটি বড় গুরুত্ব রয়েছে। সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আইএমএফের সদস্যদেশগুলোর প্রায় ৭০ শতাংশই জানুয়ারি–ডিসেম্বরকে অর্থবছর হিসেবে অনুসরণ করে থাকে। তবে বাংলাদেশ এখন জুলাই–জুনের পরিবর্তে এপ্রিল–মার্চ পদ্ধতি চালুর দিকে এগোচ্ছে।
অর্থবছর পরিবর্তনের এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে অতীতে বিভিন্ন সময়ে মালিক গোলাম মোহাম্মদ এবং আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর মতো ব্যক্তিরা যুক্ত থাকলেও, বর্তমান ১৭ আগস্টের এই নীতিগত সিদ্ধান্তটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে চূড়ান্ত করা হয়। এর মাধ্যমে দেশের আর্থিক ক্যালেন্ডারে একটি বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসতে চলেছে।








