বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগে প্রশাসনিক জটিলতা ও সংস্কার
বিশ্বব্যাংকের সহজ ব্যবসা সূচকে বাংলাদেশ ১৬৮তম অবস্থানে রয়েছে। জটিল লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার কারণে অতীতে রপ্তানি উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

২০২৬ সালের ১৭ আগস্ট প্রকাশিত এক বিশ্লেষণে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রশাসনিক নানা বাধা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের বিষয়টি উঠে এসেছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ আকর্ষণের পথে প্রশাসনিক জটিলতা সবসময়ই একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই পরিস্থিতিতে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ উন্নত করার তাগিদ অনুভব করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বব্যাংকের ইজ অব ডুয়িং বিজনেস বা সহজ ব্যবসা সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান বেশ পেছনের দিকে। বিশ্বব্যাংকের এই মর্যাদাপূর্ণ র্যাঙ্কিং অনুযায়ী, ১৯০টি অর্থনীতির মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৬৮তম। এই সূচকটি দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশের সামগ্রিক চিত্র এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলোকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।
বাস্তব অভিজ্ঞতায় এই প্রশাসনিক জটিলতার প্রভাব কতটা তীব্র হতে পারে, তার একটি উদাহরণ প্রায় এক দশক আগের একটি ঘটনা থেকে পাওয়া যায়। সে সময় সিফুর রহমান এবং সালমান সাকিব শাহরিয়ারের সংশ্লিষ্টতায় পুনর্ব্যবহৃত বা রিসাইকেল করা পাটের বস্তা বা জুট স্যাক অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র রপ্তানি করার একটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
তবে উদ্যোক্তাদের সেই সম্ভাবনাময় উদ্যোগটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। জটিল ও দীর্ঘসূত্রিতাপূর্ণ লাইসেন্সিং প্রয়োজনীয়তার মুখোমুখি হয়ে উদ্যোক্তারা প্রকল্পটি সম্পূর্ণভাবে বাদ দিতে বাধ্য হন। এই ধরনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা যে নতুন ও সম্ভাবনাময় রপ্তানি খাতের বিকাশকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে, তা এই ঘটনা থেকেই প্রতীয়মান হয়।
দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এই বিশ্লেষণে বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশের এসব বাধা দূর করার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ব্যবসার পথ সুগম করতে এবং বৈদেশিক বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হলে দ্রুত প্রশাসনিক সংস্কার বাস্তবায়ন করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার সরলীকরণ এবং অপ্রয়োজনীয় বাধা অপসারণের মাধ্যমেই কেবল দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব।








