বাংলাদেশে পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার নতুন দিগন্ত
বাংলাদেশে পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের মাধ্যমে দুর্যোগের ঝুঁকি ও অর্থনৈতিক ক্ষতি কমানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির মতো সংস্থাগুলো এই কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

প্রতি বছর বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, আকস্মিক বন্যা ও তাপপ্রবাহের মতো দুর্যোগ বাংলাদেশের মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর মারাত্মক আঘাত হানে। এসব প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি এবং জনজীবনকে চরম অনিশ্চয়তার মুখে ফেলে দেয়। এই প্রেক্ষাপটে দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়ন বা ফোরকাস্ট-বেজড ফিন্যান্সিং নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
লাইটক্যাসল পার্টনারসের নওরীন তাসনিম এই বিষয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন। পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের মূল পদ্ধতি হলো, দুর্যোগের পূর্বাভাস নির্দিষ্ট মাত্রায় পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই আগে থেকেই অর্থ ছাড় করা। এর ফলে দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, নিয়মিত বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের কারণে বাংলাদেশের বছরে প্রায় ২ শতাংশ পর্যন্ত মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি কমে যেতে পারে। তবে ভয়াবহ বন্যার বছরে এই অর্থনৈতিক ক্ষতি জিডিপির ৯ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে, যা দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করে।
গবেষণায় দেখা গেছে যে, এই ধরনের আগাম পদক্ষেপে বিনিয়োগ করা প্রতি ১ ডলার থেকে সর্বোচ্চ ৭ ডলার পর্যন্ত অর্থনৈতিক সুফল পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ, দুর্যোগের পরে ত্রাণ দেওয়ার চেয়ে দুর্যোগের আগে অর্থ বিনিয়োগ করা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও ফলপ্রসূ।
২০২৪ সালে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি বা ডব্লিউএফপি এবং বিশ্বব্যাংকের একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে বাংলাদেশ ও নেপালের কিছু পরিবারকে বন্যার আগেই নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে ডব্লিউএফপি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে দেশের ২০টি জেলায় ১৫টি আগাম পদক্ষেপের কর্মসূচি চালু করে।
এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে আগাম সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়া ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের নিবন্ধিত হিসাব ছিল ২৩ কোটি ৮০ লাখের বেশি, যা পূর্বাভাসভিত্তিক অর্থায়নের মাধ্যমে দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বা এফএও-সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থা এই কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছে।








