বাংলাদেশে ছড়াচ্ছে মাদক ‘কুশ’, ডিএনসির ধারাবাহিক অভিযান
বাংলাদেশে গত চার বছর ধরে ছড়িয়ে পড়ছে সর্বনাশা মাদক ‘কুশ’। এই মাদক চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত একটি আন্তঃদেশীয় চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আসছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। সম্প্রতি বিভিন্ন অভিযানে বড় চালান জব্দ ও বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে গত চার বছর ধরে নতুন এক মাদক হিসেবে বিস্তার লাভ করছে ‘কুশ’। এই মাদক চক্রের তৎপরতা রোধে ও চোরাচালান দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) এই চক্রের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে কুশের তিনটি চালান জব্দ করা হয়েছে। একটি আন্তঃদেশীয় চক্র এই চালানগুলো দেশে নিয়ে আসছিল বলে জানিয়েছে ডিএনসি। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তিদের ধরতে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
অভিযানের অংশ হিসেবে গত ৬ আগস্ট সাতক্ষীরা সীমান্ত থেকে ১২ কেজি কুশসহ মো. তারিকুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে বিজিবি। সীমান্ত দিয়ে অভিনব কায়দায় দেশে প্রবেশের সময় এই বড় চালানটি জব্দ করা হয়।
এর আগে গত ২৬ মে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টিএইচসিযুক্ত (THC) ৫৯টি বৈদ্যুতিক ভেইপ বা ই-সিগারেটসহ এক নারী চিকিৎসক ও তার ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলপড়ুয়া ছেলেকে গ্রেপ্তার করে ডিএনসি। বিমানবন্দর দিয়ে আসা এই চালানে নিষিদ্ধ মাদকের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়ার পরই তাদের আটক করা হয়।
তদন্তে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য বেরিয়ে আসছে। গ্রেপ্তার জুলফিকার মোল্লা এই মাদক কারবারে যুক্ত ছিলেন। তার শ্বশুরবাড়ির কাছ থেকে পাঁচ লাখ রুপি এবং ব্যাংক থেকে দুই লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন তিনি। সর্বমোট ৭ লাখ রুপির সমপরিমাণ অর্থ দিয়ে কুশের একটি চালান কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এই চালানের বিনিময়ে জুলফিকার মোল্লা দুই লাখ টাকা মুনাফা হিসেবে পাওয়ার কথা ছিল।
শুধু চোরাচালান নয়, দেশে কুশ উৎপাদনের কারখানাও গড়ে উঠেছিল। গত জানুয়ারি মাসে ঢাকার ওয়ারীতে হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে কুশ উৎপাদন ও সংরক্ষণের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ ল্যাবরেটরি আবিষ্কার ও উদ্ঘাটন করে ডিএনসি।
এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের আইনের আওতায় আনতে ডিএনসি, বিজিবি ও র্যাবসহ বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা যৌথভাবে কাজ করছে। সহকারী পরিচালক ড. আবু সাঈদ মিয়ার (ডিএনসি ঢাকা মহানগর উত্তর) মতো দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এই মাদক চক্রের শেড়মূল উৎপাটনে কাজ করছেন। এছাড়া এই ঘটনায় আকরাম মোল্লা, তৌসিফ হাসান এবং ওনাইসী সাঈদ ওরফে রেয়ার সাঈদসহ সংশ্লিষ্টদের নামও আলোচনায় রয়েছে।








