বাংলাদেশে এল হিরো এক্সপালস ২০০ ৪ভি ও প্রো
রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে হিরো মোটোকর্প ও নিলয় মোটরসের যৌথ উদ্যোগে নতুন দুই মোটরসাইকেল বাজারে এসেছে। ১২ বছরের অংশীদারত্ব উদযাপনের পাশাপাশি এর দাম ও প্রযুক্তিগত দিক তুলে ধরা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ টু-হুইলার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিরো মোটোকর্প বাংলাদেশে তাদের নতুন দুটি মোটরসাইকেল—এক্সপালস ২০০ ৪ভি এবং এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রো আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে নিয়ে এসেছে। ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঢাকার বাজারে আসার পর থেকেই বাইক দুটি নিয়ে স্থানীয় মোটরসাইকেলপ্রেমীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এর আগে ২১ আগস্ট রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে নতুন এই মোটরসাইকেলের অনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, নতুন এই মোটরসাইকেলগুলোতে রয়েছে শক্তিশালী ১৯৯.৬ সিসি ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনে রয়েছে ৪-ভালভ প্রযুক্তি। ইঞ্জিনটি থেকে ৮,৫০০ আরপিএমে ১৮.৯ বিএইচপি এবং ৬০০০ বা ৬৫০০ আরপিএমে ১৭.৩৫ এনএম টর্ক উৎপাদনে সক্ষম। রাইডারদের গিয়ার পরিবর্তনের সুবিধার জন্য বাইকটিতে রাখা হয়েছে ৫-স্পিড গিয়ারবক্স।
বাইক দুটির বিভিন্ন কাঠামোগত ও শারীরিক মাপ সম্পর্কে অনুষ্ঠানে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। স্ট্যান্ডার্ড এক্সপালস ২০০ ৪ভি বাইকটির সিটের উচ্চতা ৮২৫ মিমি এবং প্রো সংস্করণের সিটের উচ্চতা ৮৯১ মিমি। গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সের ক্ষেত্রে এক্সপালস ২০০ ৪ভি-তে রয়েছে ২২০ মিমি এবং প্রো সংস্করণে রয়েছে ২৬০ বা ২৫০ মিমি (তথ্য অনুযায়ী)। ব্রেকিং সিস্টেমের সুরক্ষায় বাইকগুলোতে সামনে রয়েছে ২৭০ মিমি এবং পেছনে ২২০ মিমি বা ১৯০ মিমি ডিস্ক ব্রেক।
অনুষ্ঠানে হিরো মোটোকর্পের আন্তর্জাতিক ব্যবসা ইউনিটের প্রধান হর্ষবর্ধন চিতালে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের বাজারে হিরোর দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ও অংশীদারত্বের কথা তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের কাছে শুধু একটি গুরুত্বপূর্ণ বাজার নয়; এটি আমাদের বৈশ্বিক পরিচয় ও উৎপাদন কার্যক্রমেরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। গত ১২ বছর ধরে ‘হিরোর দেশ বাংলাদেশ’ দর্শনকে সামনে রেখে আমরা এ দেশের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করেছি। নিলয় মোটরসের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে আধুনিক ম্যানুফ্যাকচারিং ফ্যাসিলিটি, সম্প্রসারিত সার্ভিস নেটওয়ার্ক এবং বাংলাদেশি কর্মীদের নিয়ে আমরা এখানে একটি শক্তিশালী স্থানীয় ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছি।”
হিরো মোটোকর্প ও নিলয় মোটরস লিমিটেডের এই যৌথ যাত্রায় বাংলাদেশে গ্রাহকদের জন্য ৫৩০টির বেশি সার্ভিস ও সেলস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে। দীর্ঘ মেয়াদে গ্রাহক সন্তুষ্টির কথা মাথায় রেখে এই বাইকগুলোতে পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি বা সুবিধা অফার করা হচ্ছে, যা স্থানীয় বাজারে ব্র্যান্ডটির অবস্থান আরও শক্ত করবে।
দেশের বাজারে নতুন আসা এই দুই মডেলের খুচরা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্সপালস ২০০ ৪ভি মোটরসাইকেলটির দাম রাখা হয়েছে তিন লাখ ৩৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে, আরও উন্নত ফিচারের এক্সপালস ২০০ ৪ভি প্রো মডেলটির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে তিন লাখ ৬৫ হাজার টাকা। আধুনিক প্রযুক্তির এই দুই বাইক বাংলাদেশের অফ-রোড বাইকারদের চাহিদা পূরণে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।








