ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেওয়ার দাবি বিহারের মুখ্যমন্ত্রীর
গঙ্গার পানি বৃদ্ধি ও ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ফারাক্কা বাঁধের সব গেট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী। এদিকে চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নবায়নের আগে বিহারের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন জেডিইউ সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝা।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ভারতের বিহার রাজ্যে ক্রমবর্ধমান পানি বৃদ্ধি ও অবনতিশীল বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে টেলিফোনে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে তিনি ফারাক্কা বাঁধের সমস্ত গেট অবিলম্বে খুলে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানান।
ফোনালাপের বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়ে বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বলেন, "গঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি ও বিহারের বন্যা পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আমি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সাথে ফোনে কথা বলেছি এবং ফারাক্কা বাঁধের সবগুলো গেইট খুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই মুহূর্তে বিহারের সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং ত্রাণ কার্যক্রমকেই তাদের সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বাঁধের গেটগুলো খুলে দেওয়ার কার্যকারিতা তুলে ধরে সম্রাট চৌধুরী বলেন, "ফারাক্কা বাঁধের গেইটগুলো খুলে দিলে গঙ্গার পানি প্রবাহ সুগম হবে এবং বিহারের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সহজ হবে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এ ব্যাপারে দ্রুত ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়েছেন। বর্তমানে বিহারের নিরাপত্তা ও ত্রাণ কার্যক্রমই আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।"
এদিকে এই আঞ্চলিক পানি ব্যবস্থাপনা ও বন্যা নিয়ন্ত্রণের দাবির পাশাপাশি ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদী পানি চুক্তির বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। উল্লেখ্য, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে স্বাক্ষরিত ১৯৯৬ সালের ঐতিহাসিক গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিটি আগামী ডিসেম্বর মাসে ৩০ বছর পূর্ণ করতে চলেছে।
এই চুক্তির নবায়ন প্রক্রিয়া সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে নতুন দাবি উঠেছে। জনতা দল (ইউনাইটেড) বা জেডিইউ-এর সংসদ সদস্য সঞ্জয় ঝা এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছেন যে, আগামী দিনে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তিটি নবায়ন করার পূর্বে অবশ্যই বিহার রাজ্যের স্বার্থকে গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে।
সব মিলিয়ে, বিহারের বর্তমান বন্যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে ফারাক্কা বাঁধের গেট খোলার দাবি এবং আসন্ন গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির নবায়ন—এই দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে, যেখানে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্তরের বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বক্তব্য ও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।








