প্রাথমিক প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ও দীর্ঘসূত্রিতা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ ও পদোন্নতির দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে প্রথম আলো। প্রায় সাত লাখ চাকরিপ্রার্থী এই ১ হাজার ১২২টি পদের বিপরীতে আবেদন করেছেন। দেশের হাজার হাজার প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই।
প্রকাশ: · আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:০১· ১ মিনিট পড়া

ঢাকা, বাংলাদেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ ও পদোন্নতির দীর্ঘসূত্রিতা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে এই চিত্র উঠে এসেছে। দেশের প্রাথমিক শিক্ষা খাতে শিক্ষক সংকট দূর করতে ও শূন্য পদ পূরণে নানাবিধ প্রক্রিয়া চলছে।
প্রকাশিত তথ অনুযায়ী, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে ১ হাজার ১২২টি শূন্য পদের বিপরীতে প্রায় সাত লাখ চাকরিপ্রার্থী আবেদন করেছেন। প্রতিটি পদের জন্য গড়ে ৬২৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই বিশাল সংখ্যক প্রার্থীর অংশগ্রহণে অনুষ্ঠেয় পরীক্ষায় ৯০ নম্বরের লিখিত এবং ১০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং পাস করতে হলে ন্যূনতম ৫০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে এই পদগুলোতে নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে জটিলতা চলছে। প্রধান শিক্ষক পদের মোট শূন্য পদের ৮০ শতাংশ পদোন্নতির মাধ্যমে পূরণের বিধান করে ইতোমধ্যে বিধিমালা সংশোধন করা হয়েছে। এর বাইরে অবশিষ্ট পদে সরাসরি নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা অধিদপ্তরের সূত্রে জানা গেছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই বিষয়ে শাহীনা ফেরদৌসী জানিয়েছেন, অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নিয়োগ পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য ও উপাত্ত পিএসসিতে পাঠানো হয়েছে। পিএসসি তাদের সুবিধা অনুযায়ী পরীক্ষার তারিখ ও সময়সূচি নির্ধারণ করবে।
এদিকে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)-তে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশাসনিক পরিবর্তন এসেছে। গত ১৮ আগস্ট পিএসসির চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম পদত্যাগ করেন এবং বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া পিএসসির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। এই পরিবর্তনগুলোর প্রভাবও সামগ্রিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
প্রাথমিক শিক্ষাখাতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষকের ঘাটতি অত্যন্ত প্রকট রূপ ধারণ করেছে। দেশের ৬৫ হাজার ৪৫৭টি অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদের মধ্যে বর্তমানে ৩৪ হাজার ১৫৯টি পদে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। বছরের পর বছর ধরে পদোন্নতি ও নিয়োগে দীর্ঘসূত্রিতার কারণে এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা ২০২৫ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন তথ্যে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই দীর্ঘসূত্রিতার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণ এবং পদোন্নতির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরের এই সময়ে চাকরিপ্রার্থীরা অধীর আগ্রহে পরীক্ষার তারিখ ও চূড়ান্ত ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন যাতে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার প্রশাসনিক ভিত আরও মজবুত হয়।








