পাকিস্তান ও তুরস্কের মক্কা চুক্তি নিয়ে ভারতের মেজর জেনারেলের হুঁশিয়ারি
পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে সম্প্রতি ‘মক্কা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির প্রেক্ষাপটে ভারতের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গগন দ্বীপ বক্সি দাবি করেছেন যে, তুরস্ক পাকিস্তানকে এক হাজারের বেশি ড্রোন দিয়ে সহায়তা করেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

সম্প্রতি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে ‘মক্কা চুক্তি’ নামক একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিটি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে এবং এর ভূরাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে নানা ধরনের বিশ্লেষণ সামনে আসছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সামরিক সহায়তার বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেশী দেশগুলোতেও প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এই চুক্তির পরই ভারতের অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গগন দ্বীপ বক্সি একটি বিশেষ মন্তব্য করেছেন, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন যে, তুরস্ক কেবল চুক্তির মাধ্যমেই ক্ষান্ত থাকেনি, বরং তারা পাকিস্তানকে সামরিকভাবে বড় ধরনের সহায়তা প্রদান করেছে। তার এই দাবি অনুযায়ী, আঙ্কারা ইসলামাবাদকে এক হাজারের বেশি ড্রোন সরবরাহ করেছে এবং একইসঙ্গে এই ড্রোনগুলো পরিচালনার ক্ষেত্রেও পাকিস্তানকে সার্বিক সহায়তা করছে।
মেজর জেনারেল (অবঃ) গগন দ্বীপ বক্সি তার মন্তব্যে তুরস্কের সামরিক উপস্থিতির ভূমধ্যসাগর ও আরব সাগরের ভৌগোলিক রুট নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, পাকিস্তানকে সহায়তা করার চেষ্টা করতে হলে তুরস্কের সেনাদের ভূমধ্যসাগর এবং আরব সাগর পাড়ি দিয়েই আসতে হবে। এই দীর্ঘ ও দুর্গম সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে তুরস্কের সামরিক বাহিনীকে আসতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তুরস্কের নৌবহরের গতিবিধি ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন এই ভারতীয় সামরিক বিশ্লেষক। তিনি বলেন, পাকিস্তানকে সহায়তার জন্য যদি তুরস্কের নৌবহর এগিয়ে আসে, তবে ভারতীয় নৌবাহিনী সেই বাহিনীকে সম্পূর্ণভাবে ছিন্নভিন্ন করে দিতে সক্ষম। ভারতের নৌবাহিনীর শক্তি ও সক্ষমতার কথা তুলে ধরে তিনি এই কড়া বার্তা দেন।
সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের এই সামরিক বোঝাপড়া এবং পরবর্তী সময়ে ভারতের সাবেক সেনা কর্মকর্তার এই বক্তব্য আঞ্চলিক রাজনীতিতে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিয়েছে। একদিকে ‘মক্কা চুক্তি’র মাধ্যমে নতুন সামরিক জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটছে, অন্যদিকে এর পাল্টা কৌশল ও প্রস্তুতি নিয়ে নানা মহলে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলছে। ন্যাটো বা অন্যান্য আন্তর্জাতিক শক্তির পাশাপাশি এই অঞ্চলের নৌপথের নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন বিশ্লেষকরা।








