পরিবার কার্ড কর্মসূচি: নিয়োগ ফলে অসন্তোষ ও বিক্ষোভ
বিএনপি সরকারের পরিবার কার্ড কর্মসূচির মাঠকর্মী নিয়োগ পরীক্ষার ফলকে কেন্দ্র করে অন্তত নয়টি উপজেলায় বিক্ষোভ, ভাঙচুর ও ঘেরাওয়ের ঘটনা ঘটেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় ফল স্থগিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

বিএনপি সরকার দেশব্যাপী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উদ্যোগ হিসেবে পরিবার কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের ১৬ লাখ গৃহস্থালিকে এই সুবিধার আওতায় নিয়ে আসা। এর মাধ্যমে প্রতিটি যোগ্য পরিবারের বয়োজ্যেষ্ঠ নারী সদস্যকে প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে মাসিক ভাতা প্রদান করা হবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এই কর্মসূচির আওতায় মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও তদারকির জন্য বিশাল জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী, সারা দেশে মোট ৬৬,৮১৫ জন তথ্য সংগ্রহকারী এবং ৬,৬৮১ জন মাঠ সুপারভাইজার নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই পদের বিপরীতে বিপুলসংখ্যক প্রার্থী আবেদন করেন এবং সারা দেশ থেকে মোট ৪,৬৯,১০৩টি আবেদন জমা পড়ে। সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের মোট ৫৮৩টি অফিসের মাধ্যমে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তথ্য সংগ্রহকারীদের জন্য প্রতিটি জরিপকৃত পরিবারের বিপরীতে ১৬৫ টাকা এবং প্রতিটি এন্ট্রির জন্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে চরম অসন্তোষ দেখা দেয়। এর জেরে অন্তত নয়টি উপজলায় উপজেলা পরিষদ কার্যালয় ঘেরাও, বিক্ষোভ এবং ভাঙচুরের মতো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রত্যাশী ও স্থানীয় জনতা পরীক্ষার ফলাফলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানান।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়। এর অংশ হিসেবে রাজশাহী বিভাগের সমাজকল্যাণ অধিদপ্তর থেকে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়। এই নির্দেশনার আলোকে লালপুর, বাগাতিপাড়া, গুরুদাসপুর এবং বড়াইগ্রাম উপজেলার নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল গত বৃহস্পতিবার স্থগিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই ৪টি উপজেলার স্থানীয় প্রশাসনকে এই স্থগিতাদেশ বাস্তবায়নের জন্য জানায়।
এদিকে পরিবার কার্ড কর্মসূচি চালুর সুনির্দিষ্ট সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মধ্যে ৪১ লাখ পরিবার, ২০২৮ সালের মধ্যে ৮১ লাখ পরিবার, ২০২৯ সালের মধ্যে ১২১ লাখ পরিবার এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ১৬১ লাখ পরিবারকে এই কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা হবে। দৈনিক স্টার পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ আল-আমিন সহ সংশ্লিষ্টরা এই পুরো প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেছেন।
এই কর্মসূচিতে রাজনৈতিক দলগুলোর সংশ্লিষ্টতা বা প্রতিক্রিয়াও লক্ষণীয়। মাঠ পর্যায়ের এই কার্যক্রমে বিএনপি, আওয়ামী লীগ এবং জামায়াতে ইসলামী বিভিন্নভাবে আলোচনায় রয়েছে। তবে মাঠ পর্যায়ের নিয়োগ নিয়ে তৈরি হওয়া এই জটিলতা ও বিক্ষোভ কর্মসূচিটির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজসেবা বিভাগ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ফেরাতে কাজ করে যাচ্ছে।
১৬ই আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে এই কর্মসূচি নিয়ে যেমন ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, তেমনি মাঠ পর্যায়ের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দেখা দেওয়া অনিয়ম বা অসন্তোষের অভিযোগগুলোও সমানভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখন প্রতিটি ধግ carefully পর্যবেক্ষণ করছে যাতে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ১৬ মিলিয়ন পরিবারের কাছে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়।








