নোবিপ্রবিতে জলাবদ্ধতা: ২১ বছরেও নেই সেন্ট্রাল ড্রেনেজ সিস্টেম
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) সেন্ট্রাল ড্রেনেজ সিস্টেম না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই তীব্র জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬, বিকেল ৫:৩৪· ১ মিনিট পড়া

নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (নোবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও কোনো সেন্ট্রাল ড্রেনেজ সিস্টেম গড়ে ওঠেনি। এর ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পুরো ক্যাম্পাসে চরম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই জনদুর্ভোগের চিত্র উঠে আসে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, অল্প বৃষ্টিতেই নোবিপ্রবির অভ্যন্তরীণ সড়ক, খেলার মাঠ, আবাসিক হল এবং বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের আশপাশে হাঁটুপানি জমে যায়। এর মধ্যে বিবি খাদিজা হল ও আবদুল মালেক উকিল হলের আশেপাশের এলাকাও জলমগ্ন হয়ে পড়ে। এছাড়া অর্থনীতি বিভাগ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরাও এই সমস্যার মুখোমুখি হন।
শিক্ষার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও কার্যকর কোনো পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা তৈরি হয়নি। এ বিষয়ে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী সুব্রত দে আক্ষেপ করে বলেন, "প্রতিষ্ঠার ২১ বছর পেরিয়ে গেলেও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও কোনো সেন্ট্রাল ড্রেনেজ সিস্টেম রাখা হয়নি..."
জলাবদ্ধতার কারণে ক্যাম্পাসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী মুফাচ্ছেল হোসেন বলেন, "ক্যাম্পাসে ড্রেনেজ সিস্টেম ঠিক না থাকায় অল্প বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। যার ফলে অনেকের পানিবাহিত রোগ হওয়ার সম্ভাবনা থেকে থাকে।"
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হক অমি বলেন, "প্রশাসন তো আর পায়ে হেঁটে চলাচল করে না, তারা সব সময় গাড়িতে চলাফেরা করে। তাই আমাদের জলাবদ্ধতার ভোগান্তি তাদের চোখে পড়ে না।"
শিক্ষার্থীদের এমন অভিযোগের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পানি নিষ্কাশনের এই দীর্ঘমেয়াদী সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. গোলাম রব্বানী এই বিষয়ে বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের এত বছর যাওয়ার পরও পানি নিষ্কাশনের ভালো কোনো সিস্টেম না থাকা দুঃখের বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ৫০ বছরের মাস্টার প্ল্যান তৈরির কাজ চলছে। এতে সেন্ট্রাল ড্রেনেজ সিস্টেম রাখা হয়েছে।"








