নুসরাত হত্যা: দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন হাইকোর্ট
ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় বিচারিক আদালতের রায়ের পর এবার দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছিল।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া রায়ের পর এবার দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন হাইকোর্ট। ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ফেনীতে এই নৃশংস ঘটনা ঘটেছিল। মাদ্রাসার ছাদে ডেকে নিয়ে নুসরাতকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের শিকার নুসরাত জাহান রাফি পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২০১৯ সালের ১০ এপ্রিল ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান। এর আগে ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনেছিলেন নুসরাতের মা শিরিনা আক্তার।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় এর আগে বিচারিক আদালত ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে এই মামলার আইনগত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে হাইকোর্ট বিচারিক আদালতের সেই রায়ের বিষয়ে আজ এই সিদ্ধান্ত দেন এবং দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।
এই মামলার উল্লেখযোগ্য ঘটনার পেছনে রয়েছে দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়া। মামলার দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রমে ৮৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছিল। এছাড়া ১১ ঘণ্টা ধরে ৫৭ পৃষ্ঠার জবানবন্দি এবং ৮৬৯ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র এই মামলার নথিতে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ফেনীর সোনাগাজীতে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। প্রথম আলোসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে এই ঘটনা ও মামলার প্রতিটি আপডেট গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়। মামলার সঙ্গে জড়িত বিভিন্ন ব্যক্তি এবং পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।
আলোচিত এই মামলাটিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ শাহাদাত হোসেন ওরফে শামীম, জাকির হোসাইন, মাহমুদুল হাসান ওরফে নোমান, মামুনুর রশিদ, রুহুল আমিন, মাকসুদুল আলম, হাফেজের আবদুল কাদের, আফসার উদ্দিন, নুর উদ্দিন, সাইফুর রহমান মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মনি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম, মহি উদ্দিন শাকিল ও নিশাতদের নাম বিভিন্ন পর্যায়ে উঠে আসে। পাশাপাশি সিরাজ উদদৌলা সাহেবের মুক্তি পরিষদ ও সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রসঙ্গও এই ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আলোচিত হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল ঘটনার দিন ১ লিটার কেরোসিন ব্যবহার করে নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। পরবর্তীতে আদালতের রায়ে ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ড এবং ১ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেওয়া হলেও, বর্তমান ধাপে হাইকোর্ট দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলেন।








