নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় নারী সংহতির ৫ দফা পেশ
নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে সমাবেশ করেছে নারী সংহতি। সমাবেশে চটকদার পরিসংখ্যান দিয়ে নারীর বাস্তব পরিস্থিতি আড়াল করার চেষ্টার অভিযোগ তুলে সুনির্দিষ্ট পাঁচ দফা দাবি পেশ করা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

নারীর মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে সুনির্দিষ্ট পাঁচ দফা দাবি পেশ এবং সমাবেশ করেছে ‘নারী সংহতি’। গত ২৮ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে এই কর্মসূচি পালিত হয়। দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়ে এই সমাবেশ থেকে দেশের নারী সমাজের অধিকার আদায়ের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।
সমাবেশে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চটকদার পরিসংখ্যান দিয়ে বাংলাদেশে নারীর বাস্তব পরিস্থিতিকে আড়াল করে জনমনে ধোঁয়াশা সৃষ্টি এবং পুরুষতান্ত্রিক বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার অপচেষ্টা চলছে। এই প্রেক্ষাপটেই নারী সংহতি সুনির্দিষ্ট পাঁচ দফা দাবি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামছে বলে উল্লেখ করেন সংগঠনের নেতারা।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৃহত্তর সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ বিবেচনায় নারীর নাগরিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা প্রধানতম পূর্বশর্ত। তাই পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের সংগ্রামে নারী সংগঠনগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তিকেও সমান ভূমিকা রাখতে হবে।
নারী সংহতির পেশ করা ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে— আইনপ্রণেতাদের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নিশ্চিত করা, ২০৩০ সালের মধ্যে সারাদেশে সুলভে মানসম্পন্ন ডে-কেয়ার সেবা চালু করা এবং প্রাথমিক শিক্ষায় ৬০ শতাংশ নারী শিক্ষক পুনর্বহাল করা। এই সুনির্দিষ্ট দাবিগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমেই নারীর প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হতে পারে বলে তারা মনে করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে বিভিন্ন সংগঠনের বিশিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন— অপরাজিতা চন্দ, তাসলিমা আখতার, দেওয়ান আবদুর রশিদ নীলু, ওয়ারদা আশরাফ, আবুল হাসান রুবেল, মাহিন সুলতান, নাজমা বেগম, ফারহানা মান্নান, আকলিমা আক্তার, ফারহানা মানিক মুনা, ড. শ্যামলী শীল, মনির উদ্দিন পাপ্পু, হাসান মারুফ রুমী, মাহরুখ মহিউদ্দিন, নাদিরা ইয়াসমিন, সীমা দাস সিমা এবং নাহিদা জাহান।
উক্ত সমাবেশে নারী সংহতির পাশাপাশি সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেয় বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতি, গণসংহতি আন্দোলন (জিএসএ), বিআইজিডি, কিষাণী সভা, শৈশব এবং ছাত্র ফেডারেশনের মতো বিভিন্ন সংগঠন। আয়োজকদের মতে, নারীর অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে।








