নাট্যকার সেলিম আল দীনের অবদান ও নাট্য আন্দোলন
একাত্তর-উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন সেলিম আল দীন। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার নাটক বাংলা নাট্যসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

সেলিম আল দীন একাত্তর-উত্তর বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতাত্তর সাংস্কৃতিক ও নাট্য পরিমণ্ডলে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী ও অগ্রগণ্য। নাট্যচর্চাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং এর তাত্ত্বিক ও ব্যবহারিক দিক সমৃদ্ধ করতে তিনি আজীবন সাধনা করে গেছেন।
তার এই প্রাতিষ্ঠানিক অবদানের একটি বড় মাইলফলক হলো জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা। এই বিভাগ চালুর মাধ্যমে তিনি দেশের উচ্চশিক্ষায় নাট্যকলাকে একটি স্বতন্ত্র ও মর্যাদাপূর্ণ একাডেমিক ও প্রায়োগিক শৃঙ্খলায় উন্নীত করেন, যা পরবর্তীতে দেশের নাট্যজগতে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করে।
নাট্যকার হিসেবে সেলিম আল দীন বাংলা নাট্যসাহিত্যে বহু স্মরণীয় কৃতি রেখে গেছেন। তার সৃষ্টিশীল লেখনীর মাধ্যমে বাংলা নাটকে যোগ হয়েছিল নতুন মাত্রা। তার রচিত উল্লেখযোগ্য নাটকগুলোর মধ্যে রয়েছে 'কিত্তনখোলা', 'চাকা' এবং 'নিমজ্জন'।
এই নাটকগুলোতে তিনি বাংলার মানুষের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি, গ্রামীণ জনপদের রূপ এবং মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। তার নাটক কেবল বিনোদনের মাধ্যম ছিল না, বরং তা ছিল সমাজ ও সংস্কৃতির এক গভীর রূপক ও বিশ্লেষণ।
বাংলাদেশের নাট্যতত্ত্ব, নাটক রচনা এবং নাট্য আন্দোলনের ইতিহাসে সেলিম আল দীন এক অনন্য নাম। তার নাট্যতত্ত্ব এবং নির্দেশনার কৌশল পরবর্তী প্রজন্মের নাট্যকর্মীদের জন্য এক স্থায়ী পাথেয় হিসেবে কাজ করে আসছে।
সামগ্রिकভাবে, সেলিম আল দীন তার কর্ম, সৃষ্টি ও নাট্যতত্ত্বের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনকে সমৃদ্ধ করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগ প্রতিষ্ঠা এবং 'কিত্তনখোলা', 'চাকা' ও 'নিমজ্জন'-এর মতো নাটকের মাধ্যমে তিনি দেশের শিল্প-সাহিত্যের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন।








