নতুন সরকারের ১৮০ দিনে খেলাপি ঋণ বাড়ল ৩১ হাজার কোটি টাকা
দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ উদ্ধারে নানা পদক্ষেপের মধ্যে চলতি বছরের মার্চ শেষে ঋণ বেড়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। পরিস্থিতি সামাল দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ একজিট পলিসি জারি করেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কার্যকালে দেশের ব্যাংক খাতের সামগ্রিক চিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। এই সময়ের মধ্যে নানা উদ্যোগের মধ্যেও দেশে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চ মাস শেষে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে খেলাপি ঋণ আদায়ে এবং তা হ্রাসে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
চলমান এই ঋণ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক নানা পদক্ষেপের অংশ হিসেবে একটি বিশেষ একজিট পলিসি বা প্রস্থান নীতি প্রণয়ন করেছে। খেলাপি ঋণ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এই বিশেষ নীতিটি প্রস্তুত করা হয় এবং গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে তা বাংলাদেশ ব্যাংকের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। এর মাধ্যমে ব্যাংক খাতের পুঞ্জীভূত খেলাপি ঋণ সমস্যা সমাধানের একটি প্রাতিষ্ঠানিক পথ উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
ঋণ পুনরুদ্ধারের এই প্রক্রիয়ায় ব্যাংকগুলোকে নির্দিষ্ট কিছু লক্ষ্যমাত্রাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে তাদের মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নগদ অর্থে পুনরুদ্ধার করার একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছিল। ব্যাংকগুলো এই নগদ আদায় লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে।
তবে এই বিশাল পরিমাণ খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের (বিএবি) চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার। তাঁর মতে, খেলাপি ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় বাধা হলো দীর্ঘমেয়াদী আইনি জটিলতা। বর্তমান পরিস্থিতিতে খেলাপি ঋণের প্রায় ৯০ শতাংশই ইচ্ছাকৃত খেলাপি বলে তিনি মন্তব্য করেছেন।
এই বিশাল সংখ্যক ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিষয়ে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকের চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার স্পষ্ট করে বলেছেন যে, কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হলে এই খেলাপি ঋণের প্রায় ৬০ শতাংশ সফলভাবে আদায় করা সম্ভব হতে পারে।
ব্যাংক খাতের এই সংকট উত্তরণে এবং শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা যৌথভাবে কাজ করছেন। বিশেষ একজিট পলিসির বাস্তবায়ন এবং কঠোর আইনি প্রক্রিয়া চালুর মাধ্যমে আগামী দিনে খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।








