নতুন পে-স্কেল, মূল্যস্ফীতি ও জ্বালানি নিয়ে বিশেষ ব্রিফিং
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি জানাতে এক ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়ন, ফ্যামিলি কার্ডের বিস্তার এবং জ্বালানি খাতের নানা পদক্ষেপ তুলে ধরেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশের সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি তুলে ধরতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখেন। এই ব্রিফিংয়ে দেশের নতুন পে-স্কেল, সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধা, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ এবং বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সরকারের নীতিগত অবস্থান এবং জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপের চিত্র তুলে ধরেন তিনি।
সাংবাদিকদের অধিকার ও ওয়েজ বোর্ড বিষয়ে ব্রিফিংয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, "অবশ্যই বাস্তবায়ন..., আমি আপনার সঙ্গে দ্বিমত করছি না। নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে কি না?" এ সময় তিনি সাংবাদিকদের আশ্বস্ত করে আরও বলেন, "নিশ্চিতভাবেই করবো এবং আমি এটা একেবারেই একমত নীতিগতভাবে। আমরা যদি সাংবাদিকদের চাকরি এবং তাদের জীবিকাকে সঠিকভাবে নিশ্চয়তা দিতে না পারি, আমরা বেটার জার্নালিজম পাবো না।" সরকারের পক্ষ থেকে নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়নের বিষয়ে নীতিগত ঐক্য রয়েছে বলেও নিশ্চিত করা হয়।
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান যে, সরকার মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান সহজ করতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে সরকারের একটি সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রায় ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসার।
ফ্যামিলি কার্ডের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের কল্যাণে বড় ধরনের সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ এই সহায়তার সরাসরি আওতায় আসবে বলে ব্রিফিংয়ে জানানো হয়। বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং নিম্ন আয়ের মানুষের সুরক্ষায় এই ফ্যামিলি কার্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয় যে, বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম প্রতি ইউনিটে ১২-১৩ ডলার থেকে বেড়ে বর্তমানে ২৪-২৫ ডলারে পৌঁছেছে। এই উচ্চমূল্য ও সংকট সামাল দিতে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বাপেক্স বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে মোট ১৫০টি কূপ খনন ও পুনঃখননের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ভোলার গ্যাস পাইপলাইনের মাধ্যমে মূল ভূখণ্ডে নিয়ে আসার জন্য ৫০০ কোটি টাকার একটি বিশেষ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি আমদানির অবকাঠামো সম্প্রসারণের বিষয়ে জানানো হয় যে, নতুন একটি এফএসআরইউ বা ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল দেশে আনতে প্রায় দুই বছর সময় লাগবে। পাশাপাশি দেশের বিদ্যুৎ খাতের সক্ষমতা বাড়াতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চলতি সেপ্টেম্বর মাসেই শুরু হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। সার্বিক এসব পদক্ষেপে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুদৃঢ় হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।








