দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক ধারা
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, দুদিনের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবাস আয় বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে শৃঙ্খলা ফেরায় এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা তৈরি হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

গত দুই দিনের ব্যবধানে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান রিজার্ভ বাড়ার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহে এক ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩৭ হাজার ২৪৫ দশমিক ০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই হিসাবটি দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে, যা অর্থনীতিবিদ ও সংশ্লিষ্ট মহลের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাব পদ্ধতি বা বিপিএম-৬ অনুযায়ী ওই একই দিন পর্যন্ত অর্থাৎ গত ১৮ আগস্ট পর্যন্ত রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ হাজার ৪৩৮ দশমিক ৯০ মিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এই বিপিএম-৬ পদ্ধতিটি একটি আদর্শ মানদণ্ড হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে, এই দুই দিনের ব্যবধানে দেশের গ্রস রিজার্ভ বেড়েছে ১০৩ দশমিক ৩৭ মিলিয়ন ডলার। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বা আইএমএফের হিসাব পদ্ধতিতে রিজার্ভ বেড়েছে ৯৩ দশমিক ৯৯ মিলিয়ন ডলার। বিভিন্ন সূচকের এই বৃদ্ধি দেশের অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তিদায়ক খবর।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মনে করছেন, এই রিজার্ভ বৃদ্ধির পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে। বিশেষ করে, প্রবাস আয় বা রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হচ্ছে। একই সাথে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনে শৃঙ্খলা ফিরে আসার কারণে দেশের রিজার্ভ সার্বিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী ধারায় ফিরছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রেমিট্যান্স প্রবাহের এই গতিশীলতা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারকে আরও স্থিতিশীল করতে সাহায্য করবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর মনিটরিং এবং লেনদেনে স্বচ্ছতা আনয়নের ফলে সামগ্রিক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে রিজার্ভের এই সাম্প্রতিক বৃদ্ধিতে।
বাংলাদেশ ব্যাংক আশা করছে, আগামীতেও এই ধারা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ার ফলে দেশের আমদানিসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক দেনাপাওনা পরিশোধের ক্ষেত্রে সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় হবে, যা সামগ্রিক সামষ্টিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় অর্জন।








