দেশের বিভিন্ন জেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টে বাধা ও বিতর্ক
২০২৫-২০২৬ সময়ে বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও সিলেটে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কনসার্টে নানা বাধার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় দেশের সংস্কৃতিকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় সাম্প্রতিক সময়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, কনসার্ট এবং বিভিন্ন উৎসবে বাধা দেওয়ার একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের এই সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও সিলেটে এ ধরনের ঘটনা ও তৎসংলগ্ন পরিস্থিতি নিয়ে দেশজুড়ে নানা বিতর্ক ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। এসব ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন, ধর্মীয় প্ল্যাটফর্ম ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বরা নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছেন।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদরে অবস্থিত পুলিশ লাইনসে আয়োজিত একটি কনসার্টে হামলার পাশাপাশি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই পরিস্থিতি নিয়ে পরবর্তীতে বিভিন্ন মহོলে আলোচনা শুরু হয়। এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, 'ব্রাহ্মণবাড়িয়া এলাকাটাই এমন যে গান-বাজনা-সিনেমা বহু বছর যাবত প্রায় নিষিদ্ধের মতো এলাকা। ওখানকার পরিস্থিতি আলাদা। পরিবেশ বিবেচনায় যেখানে যা ব্যবস্থা নেওয়া দরকার সেই ব্যবস্থা নিয়েছি।'
ঘটনার পর ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিয়ে নিজের একটি বক্তব্য প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হাসনাত আব্দুল্লাহ ফেসবুকে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, 'আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলাম, তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল-বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় দুঃখ প্রকাশ করছি।' পরবর্তীতে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, 'এই বাংলাদেশ সবার—এই বাংলাদেশে মসজিদ থাকবে, মন্দির থাকবে, সঙ্গীত থাকবে, ওয়াজ থাকবে, মাজার থাকবে, কনসার্ট হবে, মাহফিল হবে, রথযাত্রা হবে, সিনেমা উৎসব হবে, আবার বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনাও হবে।'
এদিকে কিশোরগঞ্জে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকটি ব্যান্ডের কনসার্ট স্থগিত করা হয়েছিল। এই স্থগিতাদেশ এবং সামগ্রিক পরিস্থিতিতে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ, কওমি ঐক্য পরিষদ, ইমাম-উলামা পরিষদ (কিশোরগঞ্জ সদর শাখা) এবং তৌহিদী জনতার মতো সংগঠনগুলো তাদের কার্যক্রম ও প্রতিবাদ পরিচালনা করে। অন্যদিকে, কিশোরগঞ্জের একটি ঘটনায় আব্দুল খালেক দাবি করেন, 'মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা সেখানে হামলা করেনি। গভীর রাতে গান বাজানো হচ্ছিল, সেটা বন্ধ করতে বলায় তারা শিশুদের ওপর হামলা করেছিল।'
অন্যদিকে সিলেটের বিয়ানীবাজারে নৌকাবাইচ আয়োজনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠলেও শেষ পর্যন্ত তা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আয়োজনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে এমরান আহমদ চৌধুরী এবং স্থানীয় অন্যান্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাদের মতামত দেন। এছাড়া আন্দালিভ রহমান পার্থসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এই পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে এ ধরনের বাধা ও উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের কামাল বায়েজীদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, 'দেশের বিভিন্ন জায়গায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ধারাবাহিকভাবে বাধা আসার পরেও কর্তৃপক্ষের নিরবতার কারণে দেশজুড়ে সংস্কৃতিকর্মীরাই নিরাপত্তাহীন হয়ে পড়েছেন।' এছাড়া জোবাইদা নাসরিনসহ অন্যান্য বিশ্লেষকরাও এই পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।
তবে সব ঘটনাকে একই সূত্রে গাঁথতে নারাজ বিশ্লেষকরা। ডা. জাহেদ উর রহমান এ প্রসঙ্গে মনে করেন, 'বিভিন্ন কারণেই কোনো অনুষ্ঠান বাতিল হতে পারে। সব ক্ষেত্রে কোনো গোষ্ঠীর আপত্তিই একমাত্র কারণ- এভাবে দেখার সুযোগ নেই।' সামগ্রिक এই পরিস্থিতিতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নিয়ে নানামুখী আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।








