তৈরি পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সিপিডির সংলাপ
রাজধানীর মহাখালীতে শিল্প খাতের কার্বন নিঃসরণ কমানো ও জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে সিপিডির একটি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংলাপে ৩৫০টি তৈরি পোশাক কারখানার ওপর পরিচালিত জরিপের তথ্য তুলে ধরা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

আজ রোববার রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টার ইনে শিল্পের কার্বন নিঃসরণ কমানো এবং জ্বালানি সাশ্রয় নিয়ে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) উদ্যোগে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দেশের তৈরি পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং শক্তি সাশ্রয়ের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সংলাপে জানানো হয়, গত বছরের শেষ দিকে দেশের ৩৫০টি তৈরি পোশাক কারখানার ওপর নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে একটি বিশেষ জরিপ পরিচালনা করা হয়। এই জরিপের বিভিন্ন তথ্য ও উপাত্ত অনুষ্ঠানে উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট বক্তারা। অনুষ্ঠানে সিপিডি, বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউয়েবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম, ভিদিয়া অমৃত খান, ফজলে শামীম এহসান, মোস্তফা আল মাহমুদ ও সামি মোহাম্মদ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা তৈরি পোশাক কারখানায় শক্তির দক্ষ ব্যবহার এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ওপর জোর দেন। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে এই খাতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব।
জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কারখানাগুলোতে ২৫ হাজার মেগাওয়াট-ঘণ্টার বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা সম্ভব এবং এর মাধ্যমে ঝুঁকি অন্তত ৪ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। এছাড়া আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে মাসিক জ্বালানি খরচ ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে আসবে বলে জানানো হয়।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই পুরো প্রক্রিয়ায় ১৩ হাজার ২০৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ প্রয়োজন। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ কারখানার ক্ষেত্রে ৬ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা এবং শতভাগ বাস্তবায়নে ১৩ হাজার ২০৯ কোটি টাকা মূলধনি খরচ হবে। তবে অর্থায়নের ক্ষেত্রে দেখা যায়, ৭১ শতাংশ লাগবে সবচেয়ে বড় ২৫ শতাংশ কারখানার ক্ষেত্রে এবং মাত্র শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ অর্থায়ন প্রয়োজন হবে ক্ষুদ্রতম কারখানাগুলোর জন্য।
জরিপে আরও উঠে আসে যে, আলোচিত কারখানাগুলোর জ্বালানি ব্যবহারের ৮৫ শতাংশই সেলাই বিভাগের। এই বিভাগে ৩ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুযোগ রয়েছে। এছাড়া সাড়ে ৫ শতাংশ ব্যবহার করলেও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে এই বিভাগ থেকে মোট বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের ২৭ শতাংশের বেশি অর্জন করা সম্ভব। সার্বিকভাবে এই পদক্ষেপে ১০ থেকে ১৭ শতাংশ পর্যন্ত জ্বালানি সাশ্রয় হতে পারে।
সবশেষে অনুষ্ঠানে কার্বন নিঃসরণ কমানোর অংশ হিসেবে কার কারখানাগুলোতে ৩০ শতাংশ সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এর ফলে শিল্পের উৎপাদন খরচ কমার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর চাপ কমবে এবং ৪ শতাংশ পর্যন্ত সাশ্রয় নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে মত দেন আলোচকরা।








