তামিম ইকবাল বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত, এ বছর বিপিএল স্থগিত
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর এ বছর বিপিএল আয়োজন না করার ঘোষণা দিয়েছেন তামিম ইকবাল। গত দুই আসরে বোর্ডের বড় অংকের আর্থিক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ ক্রিকেটে বড় ধরণের পরিবর্তন এসেছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নতুন সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন দেশের ক্রিকেটের পরিচিত মুখ তামিম ইকবাল। বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণের পরই দেশের সবচেয়ে বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট নিয়ে বড় ধরণের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। তামিম ইকবাল বিসিবি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর পরই ঘোষণা দিয়েছেন যে, এ বছর কোনো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ বা বিপিএল অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। তার এই ঘোষণায় দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
টুর্নামেন্টটি এ বছর না করার পেছনে সুনির্দিষ্ট আর্থিক কারণ তুলে ধরেছেন বিসিবি সভাপতি। তিনি জানিয়েছেন, গত দুই আসরে বিসিবির বড় অংকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, বিপিএলের শেষ দুই আসরে বিসিবির ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪০ কোটি টাকা।
এই বিশাল আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি স্পষ্ট করে তামিম ইকবাল একটি সুনির্দিষ্ট উদ্ধৃতিতে বলেছেন, "বিপিএলের শেষ দুই আসরে ৪০ কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে বিসিবি’র। তাই যে টুর্নামেন্টে আমার ২০ কোটি টাকা ক্ষতি হবে, সেই টুর্নামেন্ট আমার প্রায়ারোটি লিস্টে নাই এই মুহূর্তে।"
তবে টুর্নামেন্টটির ভবিষ্যত নিয়ে সম্পূর্ণ নিরাশ নন বিসিবি সভাপতি। বিপিএলের জনপ্রিয়তা এবং এর বাণিজ্যিক গুরুত্বের কথা স্বীকার করে তিনি একে একটি চমৎকার বা ভালো পণ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মানুষ যে খেলা দেখতে মাঠে আসে এবং এই টুর্নামেন্ট নিয়ে যে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে, সে কথাও তিনি স্বীকার করেন।
এ বিষয়ে তামিম ইকবাল আরও বলেছেন, "আমি এখনও বিশ্বাস করি বিপিএল খুবই ভালো প্রোডাক্ট। বিপিএল নিয়ে প্রচুর আগ্রহ আছে, মানুষ খেলা দেখতে আসে। বিপিএল সঠিকভাবে আয়োজন করলে আগ্রহটা আরও বাড়ানো সম্ভব। এজন্য যদি ১২, ১৮, ২৪ মাসও সময় লাগে লাগুক। আয়োজন করলে ঠিকঠাকভাবে করব। তা না হলে আমি এটা করব না।"
সবমিলিয়ে, বোর্ডের আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং মানসম্মত টুর্নামেন্ট উপহার দেওয়ার লক্ষ্যেই বিসিবির নতুন সভাপতি এই কঠোর ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যথাযথ প্রস্তুতি এবং সঠিক আয়োজনের পরিকল্পনা ছাড়া বিপিএল আয়োজনে রাজি নন তিনি, যা দেশের ক্রিকেটের দীর্ঘমেয়াদী স্বার্থের জন্যই করা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।








