তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনা জামানতের ঋণ চালু
বাংলাদেশ ব্যাংক তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য 'উদ্যোগ' নামক নতুন নীতিমালা জারি করেছে। এর আওতায় সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স বা ঋণ ও অনুদান পাওয়া যাবে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:৩৩· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ ব্যাংক দেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে একটি নতুন এবং যুগান্তকারী নীতিমালা জারি করেছে। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এই নীতিমালার শিরোনাম দেওয়া হয়েছে 'উদ্যোগ: উপজেলাভিত্তিক তরুণ উদ্যোক্তা অনুসন্ধান, চিহ্নিতকরণ ও অর্থায়ন কর্মসূচি'। এই কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের তরুণরা ব্যবসা শুরু করার ক্ষেত্রে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা পাওয়ার সুযোগ লাভ করবেন।
এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত তরুণ উদ্যোক্তারা সম্পূর্ণ বিনা জামানতে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন লাভ করবেন। এই বিশেষ অর্থায়নটি 'ব্লেন্ডেড ফাইন্যান্স' বা ঋণ ও অনুদান মিশ্রিত ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রদান করা হবে। এর ফলে নতুন ব্যবসা শুরু করা বা চলমান ব্যবসা প্রসারণের ক্ষেত্রে তরুণদের প্রাথমিক মূলধন সংগ্রহের চাপ অনেকাংশে কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঘোষিত নীতিমালা অনুযায়ী, এই ২০ লাখ টাকার অর্থায়নের কাঠামোটি বেশ আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যাংকঋণ হিসেবে প্রদান করা হবে। বাকি ১০ লাখ টাকা দেওয়া হবে ম্যাচিং গ্র্যান্ট বা অনুদান হিসেবে, যা গ্রহীতাকে ফেরত দিতে হবে না।
এই বিশেষ কর্মসূচিতে আবেদন করার জন্য কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। আবেদনকারীর বয়স আবেদনের শেষ তারিখে সর্বোচ্চ ২৮ বছর হতে হবে। এছাড়া আবেদনকারীকে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট উপজেলার স্থায়ী বাসিন্দা এবং একজন বাংলাদেশি নাগরিক হতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে স্বাবলম্বী করে তুলতে এই বয়সসীমা ও স্থানীয় বাসিন্দার শর্তটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়েছে।
তবে কিছু নির্দিষ্ট ব্যক্তি এই সুবিধার আওতা থেকে বাইরে থাকবেন। ঋণখেলাপি ব্যক্তি, পূর্বে ব্যাংকঋণ গ্রহণকারী এবং সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এ সুবিধার বাইরে থাকবেন। অর্থাৎ সম্পূর্ণ নতুন এবং ব্যাংকঋণের সাথে অতীতে যুক্ত নন এমন তরুণরাই এই কর্মসূচির প্রকৃত সুফলভোগী হবেন।
উদ্যোক্তা নির্বাচনে স্বচ্ছতা এবং গতিশীলতা বজায় রাখতে বিশেষ ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। মনোনীত উদ্যোক্তাদের আবেদন করার পর মাত্র ১৭ কার্যদিবসের মধ্যে ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে দীর্ঘসূত্রিতা ছাড়াই দ্রুত ব্যবসা শুরু করা সম্ভব হয়।
সবশেষে, এই অনুদান বা ঋণের অপব্যবহার রোধে কঠোর শর্তও জুড়ে দেওয়া হয়েছে। ঋণের অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে বা অর্থের কোনো ধরনের অপব্যবহার করা হলে, অনুদানের অংশটিও সুদমুক্ত ঋণে পরিণত হবে। ফলে গ্রহীতাদের অত্যন্ত দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এই তহবিলের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।








