ঢাবিতে শত বছরের সফল ব্যক্তি স্মারক সম্মাননা ও সংবর্ধনা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদে 'শত বছরের সফল ব্যক্তি স্মারক সম্মাননা এবং প্রকাশনা ও সংবর্ধনা-২০২৬' অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

শুক্রবার (২১ আগস্ট ২০২৬) রাজধানী ঢাকার ঐতিহাসিক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনে এক জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে 'শত বছরের সফল ব্যক্তি স্মারক সম্মাননা এবং প্রকাশনা ও সংবর্ধনা-২০২৬' আনুষ্ঠানিকভাবে উদযাপিত হয়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান রাখা গুণীজনদের স্মরণে এবং তাদের কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এই আয়োজনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। অনুষ্ঠানে সমাজ ও দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বিশিষ্ট ব্যক্তি ড. ইউসুফ খান, মো. লুৎফর রহমান মতিন, আব্দুল কাশেম চৌধুরী, শায়খানাজে রহমান এবং মো. লুৎফর রহমান উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আয়োজক হিসেবে ছায়ানীড় নামক সংগঠন এই পুরো অনুষ্ঠানের দায়িত্বে ছিল।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তার সুচিন্তিত বক্তব্য তুলে ধরেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি সমাজে অবদানের স্বীকৃতি দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে বলেন, সমাজ ও দেশের জন্য যারা গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন- ধর্ম, দল বা পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে তাদের অবদানকে স্বীকৃতি ও সম্মান জানানোর পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরতে হবে। এ ধরনের ইতিহাস ও অবদান তরুণদের সামাজিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করবে।
বর্তমান যুগের নানা সংকট এবং প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের কথা জানান মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। তরুণ সমাজ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নৈতিক অবক্ষয় রোধে তিনি বই পড়ার প্রতি গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস কমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষতিকর ও অনুপযুক্ত কনটেন্টের বিস্তার শিশু-কিশোরদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
প্রযুক্তির এই অপব্যবহার রোধে বর্তমান সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম আরও বলেন, এই বিষয়ে সরকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। শিশু-কিশোরদের নিরাপদ ও সুস্থ মানসিক বিকাশের স্বার্থে সরকার এই বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিভিন্ন নতুন বইয়ের প্রকাশনা ও মোড়ক উন্মোচন পর্ব। আয়োজনের অংশ হিসেবে এ দিন মোট ৮টি গ্রন্থের আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করা হয়। সাহিত্য ও মননশীল চর্চাকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে এই গ্রন্থগুলোর প্রকাশনা উপস্থিত বিশিষ্টজন ও অতিথিদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি করে।
সব মিলিয়ে গুণীজনদের সংবর্ধনা, স্মারক সম্মাননা প্রদান এবং নতুন বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ওসমান জামাল মিলনায়তনের এই অনুষ্ঠানটি এক মিলনমেলায় পরিণত হয়। দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ এবং আয়োজক প্রতিষ্ঠান ছায়ানীড়ের সক্রিয় অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সমাপ্ত হয়।








