ঢাবিতে পরীক্ষায় এআই ব্যবহারের দায়ে দুই ছাত্র নেতার শাস্তি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়ায় ছাত্রদল ও হল সংসদের দুই নেতাকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। গত ৩১ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ৭ সেপ্টেম্বর তা অফিস আদেশে প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ৭:১৯· ১ মিনিট পড়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) সেবা ব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ছাত্রদল ও হল সংসদের দুই নেতার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দেশের সর্বোচ্চ এই বিদ্যাপীঠে এ ধরনের ডিজিটাল জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত থাকার দায়ে শাস্তির এই ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই দুই শিক্ষার্থী ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল সংসদেরও দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা। পরীক্ষা চলাকালীন সময়ে আধুনিক প্রযুক্তি তথা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগ ওঠার পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা পরিষদের নিকট উপস্থাপন করা হয়। পরবর্তীতে শৃঙ্খলা পরিষদের সুপারিশ অনুযায়ী গত ৩১ আগস্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় অভিযুক্ত ছাত্রদল ও হল সংসদের দুই নেতার শাস্তি চূড়ান্ত করা হয়।
সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের দায়ে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় ওই দুই নেতাকে বিভিন্ন মেয়াদে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ থেকে বিরত রাখার শাস্তি দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার মতো পবিত্র স্থানে এআই প্রযুক্তির অপব্যবহারের অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এমন কঠোর পদক্ষেপকে সময়োপযোগী বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সিন্ডিকেট সভার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর গত ৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. হিমাদ্রি শেখর চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত একটি আনুষ্ঠানিক আদেশ জারি করা হয়। ওই আদেশের মাধ্যমেই মূলত শাস্তিসংক্রান্ত এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে এবং সংশ্লিষ্ট মহলে ছড়িয়ে পড়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, একাডেমিক শৃঙ্খলা রক্ষা এবং পরীক্ষায় জালিয়াতি রোধে বিশ্ববিদ্যালয় জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কেউ জড়িত হলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।








