ঢাকার যানজট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর ৭ নির্দেশনা
রাজধানীর যানজট নিরসন, ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর অংশ হিসেবে কারওয়ান বাজার ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল স্থানান্তরসহ মোট সাতটি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ঢাকার সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধানে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সম্প্রতি রাজধানীর ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও পরিবহন খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি মোট সাতটি সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। বাসস ও প্রথম আলোর তথ্যানুযায়ী, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে এই উদ্যোগের ফলে রাজধানী ঢাকার যোগাযোগ ব্যবস্থায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে ঢাকার সড়কে বিশৃঙ্খলার একটি বড় কারণ হলো বিভিন্ন গতির ও যান্ত্রিক ত্রুটির গাড়ির উপস্থিতি। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ১৮ ধরনের যানবাহন চলাচল করে। এসব যানের বহুমুখী গতির কারণে সড়কে প্রায়ই তীব্র যানজট সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। এই পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যানজট নিরসনে বিশেষ কিছু অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া নির্দেশনার মধ্যে অন্যতম হলো শহরের ভেতর থেকে গুরুত্বপূর্ণ বাজার ও বাস টার্মিনাল অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া। এর অংশ হিসেবে কারওয়ান বাজারের কিচেন মার্কেট গাবতলীতে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কারওয়ান বাজার এলাকার তীব্র যানজট ও জনস্রোত অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ ছাড়াও রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনালও শহরের ভেতর থেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এই টার্মিনালটি কেরানীগঞ্জে স্থানান্তরের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন। ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল স্থানান্তরিত হলে পুরান ঢাকা ও এর আশেপাশের এলাকার ট্রাফিক জট উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
যানজট নিরসনে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপরও বিশেষ জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তারই ধারাবাহিকতায় এক্সপ্রেসওয়ে ও উড়ালসড়কের (ফ্লাইওভার) টোল প্লাজাগুলোতে দ্রুত ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন বা ইটিসি (ETC) সিস্টেম চালু করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই ব্যবস্থা চালু হলে টোল প্লাজায় গাড়িগুলোকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না, যা নিরবচ্ছিন্ন যান চলাচলে সহায়তা করবে।
পাশাপাশি রাজধানীতে চলাচলকারী গণপরিবহনের ফিটনেস ও বৈধতার বিষয়েও কড়া নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে অনুমোদনহীন ডাবল ডেকার স্লিপার বাস চলাচলের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন ছাড়া এ ধরনের বাস রাজধানীর সড়কে চলতে পারবে না।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই সাতটি নির্দেশনা বাস্তবায়িত হলে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং নগরবাসীর যাতায়াত আরও সহজ ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে এই পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হবে।








