ঢাকায় বাড়ল বনরুটি ও কেকের দাম, বিপাকে সাধারণ মানুষ
রাজধানীতে বনরুটি ও কেকের দাম বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি। কাঁচামালের দাম বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বেড়ে যাওয়ায় এই মূল্যবৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

গত রোববার ঢাকায় বেকারি পণ্যের দাম বৃদ্ধির একটি চিত্র সামনে এসেছে। এর আগে বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতি গত শনিবার থেকে রুটির দাম বাড়িয়েছে। মূলত ময়দা, চিনি, ডালডা, সয়াবিন তেল ও গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
খুচরায় প্রতি কেজি খোলা ময়দার দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে। এ ছাড়া খোলা সয়াবিন ৫ শতাংশ এবং চিনির দাম গড়ে ১১ শতাংশ বেড়েছে। কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সার্বিকভাবে পণ্য উৎপাদন ১০ থেকে ১৫ শতাংশ কমে গেছে।
মূল্যবৃদ্ধির এই প্রভাব পড়েছে বিভিন্ন পণ্যে। বনরুটির দাম পিসপ্রতি ৫ টাকা বেড়েছে এবং ১০ টাকা থেকে বেড়ে ১৫ টাকা হয়েছে। বিস্কুটের দাম কেজিতে গড়ে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে ১৩০০ থেকে ১৫০ টাকা হয়েছে। এ ছাড়া বনরুটি ও মাফিন কেকের ওজন ৪০ গ্রাম থেকে কমিয়ে ৩৫ গ্রাম করা হয়েছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৭ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি হয় ৯ দশমিক ৩২ শতাংশ। ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) এবং প্রথম আলোর তথ্যেও বাজার পরিস্থিতির এই চাপের কথা উঠে এসেছে।
মূল্যবৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও দাম বাড়ানোর দাবিতে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেকারি কারখানাগুলোতে উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পাওয়ায় খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে বাধ্য হয়েই এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্রেড বিস্কুট ও কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি মো. জালাল উদ্দিন এ বিষয়ে বলেন, রুটি ও কেক তৈরির কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে খরচ সামলানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই আমরা এই মূল্য সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
পণ্যের দাম বাড়ায় নিম্নআয়ের মানুষ ও খুচরা বিক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। রিকশাচালক আলমগীর আক্ষেপ করে বলেন, দুইডা খেপ (ভাড়া) মাইরা একটা রুটি, একটা চা খাওনই লাগে। না হয় শরীরে বল (শক্তি) পাই না। কিন্তু এহন খরচ ৫ টেয়া বাড়ছে। অন্যদিকে চা বিক্রেতা জব্বার শেখ জানান, গত এক মাসে চা পাতার দাম কেজিতে ৫০ টাকা বেড়েছে। চিনির দামও আগের তুলনায় কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। এখন বাড়ল রুটি, কেকের দাম। এমনিতে চায়ের দাম তো আমরা বাড়াতে পারিনি। রুটি, কেকের দাম বৃদ্ধিতে উল্টো আমার বেচাকেনা কিছুটা কমে যেতে পারে। সারা দেশে ক্ষুদ্র বেকারির সংখ্যা প্রায় ৭ হাজার এবং শুধু ঢাকাতেই রয়েছে ৭০০টির বেশি বেকারি।








