ডিসেম্বরে বড় পরিসরে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়ोजना করবে বিসিবি
ডিসেম্বরে একটি বড় মাপের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এই টুর্নামেন্টের জন্য খুলনা, বরিশাল, বগুড়া ও রাজশাহী—এই চারটি ভেন্যু নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা চলছে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আগামী ডিসেম্বরে একটি বড় পরিসরে টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পরিকল্পনা করছে। ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, এই টুর্নামেন্ট সফলভাবে সম্পন্ন করার জন্য দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভেন্যুগুলো নিয়ে এখন থেকেই জোরালো প্রস্তুতি ও মূল্যায়ন শুরু করেছে দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
টুর্নামেন্টটির সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে প্রাথমিকভাবে চারটি স্থানকে টার্গেট করা হয়েছে। এই ভেন্যুগুলো হলো খুলনা, বরিশাল, বগুড়া এবং রাজশাহী। তবে কোন ভেন্যুতে ম্যাচগুলো গড়াবে, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বোর্ড। এ প্রসঙ্গে সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং কোন ভেন্যুতে কী সুবিধা রয়েছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, যদি কোনো ভেন্যু খেলার উপযোগী না হয়, তবে সেখানে আয়োজন করা সম্ভব হবে না।
ভেন্যুগুলোর বর্তমান প্রস্তুতি ও সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেছেন সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর। তিনি বলেন, এখানে খেলা আয়োজন করতে গেলে দর্শকদের বিষয়টি দেখতে হবে, বসার ব্যবস্থা, ড্রেসিংরুম ও সাংবাদিকদের বসার জায়গা থাকতে হবে। এগুলো যদি মানসম্মত না হয়, তাহলে যেসব ভেন্যু মানসম্মত হবে, সেখানেই খেলা আয়োজন করা হবে। এখন এই চারটি ভেন্যুর পরিদর্শন প্রতিবেদন দেখে বোর্ড বসে সিদ্ধান্ত নেবে। এখনো কোনো ভেন্যু চূড়ান্ত হয়নি।
মাঠের বর্তমান অবস্থা ও সংস্কার কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর জানান যে, ভেন্যু না থাকলে তারাও বিপদে পড়ছেন। এনসিএল বা এ ধরনের বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজনের কারণে মাঠগুলো নষ্ট হয়ে গেছে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, খুলনা মাঠ শেষ করে দিছে, বগুড়া মাঠ শেষ করে দিছে। এছাড়া বরিশাল এখনও রেডি হয়নি বলেও তিনি জানান। তিনি আরও বলেন যে, এগুলো তো দিনের পর দিন অবহেলা বা অযত্নে ভেন্যুগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এগুলো বেসিক কাজ না করলে আসলে ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ বা ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচ আয়োজন করা সম্ভব নয়।
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বা এনএসসি-র সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে সিরাজউদ্দিন মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, তারা নিয়মিত যোগাযোগ করছেন এবং দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই চিঠি দেওয়া ও কথা বলার মাধ্যমে যোগাযোগ করে আসছেন। মূলত এই কাজগুলো এনএসসিকেই করতে হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি জানান যে, তাদের পক্ষ থেকে যতটুকু বলা বা প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব, তারা সেটাই করছেন।
খুলনা ভেন্যু ও সংশ্লিষ্ট প্রকল্প নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন শফিকুল আলম। তিনি জানান, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বা এনএসসি যে প্রকল্প নিয়েছে, সেটির টেন্ডার হয়ে গেছে। এই প্রকল্পের খরচ ৫৫০ কোটি টাকার বেশি। প্রকল্পটি পাস হয়ে গেছে এবং খুলনায় ইনশাআল্লাহ খুব শীঘ্রই কাজ শুরু হবে। ভেন্যু সম্প্রসারণের বিষয়ে শফিকুল আলম নিশ্চিত করেন যে, রাজশাহী ও সিলেটের পর ইনশাআল্লাহ খুলনায়ও খেলা হবে এবং তারা সেটির জন্য জোরালো চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
উল্লেখ্য, ঐতিহ্যের দিক থেকে খুলনার একটি সমৃদ্ধ ক্রিকেট ইতিহাস রয়েছে। ২০০৬ সালের জানুয়ারি মাসে ওয়ানডে স্ট্যাটাস অর্জনের পর খুলনা ভেন্যুতেই বাংলাদেশ তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খেলেছিল। এছাড়া ২০১৬ সালের ৫ এপ্রিল কালবৈশাখী ঝড়ে খুলনা বিভাগীয় স্টেডিয়াম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও রয়েছে। তবে বর্তমান আয়োজনের জন্য ভালো ভেন্যু ও ভালো সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্টের ওপর জোর দিচ্ছে বিসিবি, যাতে মাঠে দর্শক ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।








