ডিমলায় শখের নার্সারি ‘প্লান্টোলজি’ থেকে আতিফা নাসরিনের বাণিজ্যিক সাফল্য
মাত্র এক হাজার টাকার ক্যাকটাস কিনে শুরু করা আতিফা নাসরিন রাখির ‘প্লান্টোলজি’ নার্সারি এখন বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করেছে। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার এই নার্সারিতে বর্তমানে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার চারা রয়েছে এবং প্রতি মাসে ভালো আয় হচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৯ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ২:১৭· ১ মিনিট পড়া

নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় শখের বশে শুরু করা একটি নার্সারি থেকে অসাধারণ বাণিজ্যিক সাফল্য অর্জন করেছেন আতিফা নাসরিন রাখি। ২০২০ সালে গৃহিণীর ঘর সাজানোর শখ থেকে শুরু হওয়া এই উদ্যোগটি আজ একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে। ২৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার এই ব্যবসায়ের সাফল্য স্থানীয় পর্যায়ে বেশ সাড়া ফেলেছে।
আতিফা নাসরিন রাখি নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার গয়াবাড়ী গ্রামের শাকিল খানের স্ত্রী। মূলত ২০২০ সালে নিজের ঘর সাজানোর তীব্র আগ্রহ থেকেই তিনি গাছ কেনার সিদ্ধান্ত নেন। সেই সময়ে তিনি মাত্র এক হাজার টাকা খরচ করে দুই জোড়া ক্যাকটাসের চারা কিনেছিলেন, যা ছিল তার এই দীর্ঘ যাত্রার একেবারেই প্রথম সূচনা।
ক্যাকটাস কেনা দিয়ে শুরু হওয়া সেই ছোট্ট শখটি পরবর্তীতে একটি পূর্ণাঙ্গ নার্সারিতে রূপান্তরিত হয়। তার এই নার্সারিটির নাম রাখা হয়েছে 'প্লান্টোলজি'। বর্তমান সময়ে 'প্লান্টোলজি' নার্সারিতে শুধু ক্যাকটাস নয়, বরং দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির নানা ধরনের আকর্ষণীয় গাছের চারা রয়েছে, যা বাগানপ্রেমীদের মনোযোগ কাড়ছে।
ব্যবসা প্রসারের জন্য আতিফা নাসরিন রাখি বহুমুখী পথ বেছে নিয়েছেন। তিনি শুধু নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি; বরং অনলাইনের পাশাপাশি সরাসরি নিজের নার্সারি থেকেও নিয়মিত গাছের চারা বিক্রি করে আসছেন। এর ফলে স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি দূর-দূরান্তের মানুষও তার নার্সারি থেকে পছন্দের গাছ সংগ্রহ করার সুযোগ পাচ্ছেন।
দীর্ঘ পরিশ্রম ও যত্নের ফলে 'প্লান্টোলজি' নার্সারির আর্থিক ভিত্তি এখন বেশ মজবুত। বর্তমানে এই নার্সারিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকা মূল্যের বিভিন্ন গাছের চারা রয়েছে। গাছের এই বিশাল সংগ্রহ ও চাহিদার কারণে তার ব্যবসায়িক আয়ও উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বর্তমানে আতিফা নাসরিন রাখির নার্সারি থেকে প্রতি মাসে প্রায় ৮০ হাজার টাকা লাভ থাকে, যা কোনো কোনো মাসে এক লাখ টাকা পর্যন্ত ছাড়িয়ে যায়। শখকে ব্যবসায় রূপ দিয়ে এমন সাবলম্বী হওয়া এলাকায় ব্যাপক অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।
রাখির এই সফল উদ্যোগে উচ্ছ্বসিত স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। এ বিষয়ে মীর হাসান আল বান্না মন্তব্য করে বলেন, 'রাখির উদ্যোগটি বেশ প্রশংসনীয়। তিনি শখকে কাজে লাগিয়ে একটি সম্ভাবনাময় নার্সারি গড়ে তুলেছেন। এখানে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রয়েছে, যা এলাকার মানুষের মধ্যে বাগান করার আগ্রহও তৈরি করছে। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হবে।'








