ডার্বিতে নাইটক্লাবের বাইরে গ্রেপ্তার ইংল্যান্ড পেসার ব্রাইডন কার্স
গত শনিবার ডার্বিতে এক ম্যাচ শেষে নাইটক্লাবের বাইরে পুলিশের হাতে আটক হন ইংল্যান্ডের পেসার ব্রাইডন কার্স। পরে বড় কোনো অভিযোগ না থাকায় তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় তাকে পাকিস্তান সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

গত শনিবার ইংল্যান্ডের ডার্বি শহরে একটি কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপ ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অপ্রীতিকর ঘটনার মুখে পড়েন ইংলিশ পেসার ব্রাইডন কার্স। ম্যাচ শেষে ডার্বিতে একটি নাইটক্লাবের বাইরে পুলিশ তাকে সাময়িকভাবে হাতকড়া পরিয়ে আটক করে। এই আকস্মিক ঘটনার পর ইংল্যান্ডের ক্রিকেট অঙ্গনে বড় ধরনের চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
অবশ্য স্বস্তির খবর হলো, পরবর্তীতে কোনো বড় ধরনের অভিযোগ না থাকায় ব্রাইডন কার্সকে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে মাঠের বাইরের এই শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনাটি বেশ গুরুত্বের সঙ্গেই দেখছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ঘটনার পর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপে তাকে পাকিস্তান দলের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া দ্বিতীয় টেস্টের স্কোয়াড থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।
কার্সের অনুপস্থিতিতে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে দলে নেওয়া হয়েছে হ্যাম্পশায়ারের উদীয়মান পেসার সনি বেকারকে। যিনি এখন স্কোয়াডে কার্সের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। এছাড়া ঘটনাটির তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) এবং স্বাধীন ক্রিকেট রেগুলেটর (আইসিআর)।
এদিকে এই ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইংল্যান্ডের সাবেক ও বর্তমান ক্রিকেটাররা। মাইকেল ভন মন্তব্য করেছেন, এমন একটা শাস্তি দরকার, যা পুরো ইংল্যান্ড দলকে কাঁপিয়ে দেবে। সবাই যেন বুঝতে পারে, যদি খারাপ আচরণ করো বা দলের সুনাম নষ্ট করো, তাহলে কী পরিণতি অপেক্ষা করছে। তিনি আরও বলেন, কার্স যদি একাই সব দায় নেয়, সেটা কঠিন হবে। কিন্তু কোনো না কোনোভাবে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। যাতে বোঝা যায়, এই আচরণ আর মেনে নেওয়া হবে না।
দলের এমন কান্ডকারখানায় ভীষণ বিরক্ত জো রুট। তিনি বলেন, আমি সত্যি খুব বিরক্ত, ভীষণ হতাশ। আমরা একের পর এক কেন এমন সব ভুলভাল কাণ্ড করে চলছি! এতে আমাদের মাঠের পারফরম্যান্স আর অর্জনের আলোটাই যে ঢাকা পড়ে যাচ্ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বেন স্টোকসও। ক্রিকেটের সংস্কৃতি নিয়ে তিনি বলেন, আমার মনে হয়, ক্রিকেটে একটা মদ্যপানের সংস্কৃতি আছে আর সেটা এখনো বদলায়নি। আমরা এখন ২০২৬ সালে আছি। বছরের পর বছর ধরে খেলাটা আরও পেশাদার হয়েছে, কিন্তু একটা জিনিস ক্রিকেটের সঙ্গে ঠিক আগের মতোই থেকে গেছে, সেটা হলো মদের সঙ্গে সম্পর্ক। এটা ঠিক সেখানেই থেকে গেছে, খেলাটার সঙ্গে মিশে গেছে।
সব মিলিয়ে ব্রাইডন কার্সের এই ঘটনাটি ইংল্যান্ড ক্রিকেট দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং সংস্কৃতির প্রশ্নটিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। ডার্বির এই পুলিশি আটকের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং এর ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে সংশ্লিষ্টদের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ। ডার্বিশায়ার, ডারহাম এবং সামগ্রিক ক্রিকেট মহলে এখন একটাই আলোচনা—মাঠের বাইরের এমন আচরণ কীভাবে কঠোর হাতে দমন করা যায়।








