টেস্টে স্পিনারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নো বল রবীন্দ্র জাদেজার
২০২১ সাল থেকে টেস্ট ক্রিকেটে স্পিন বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নো বল করার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মালিক হয়েছেন ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা। এই সময়ে তাঁর করা মোট নো বলের সংখ্যা ৮৮টি, যদিও কোথাও কোথাও ৮৯টি উল্লেখ করা হয়েছে। অতিরিক্ত রান ও বল উপহার দেওয়ার এই প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কোচ সাইরাজ বাহুতুলে।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

টেস্ট ক্রিকেটে স্পিন বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি নো বল করার অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের শীর্ষে অবস্থান করছেন ভারতের অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার রবীন্দ্র জাদেজা। ২০২১ সাল থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত তাঁর করা মোট নো বলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮৮টিতে, যদিও কিছু পরিসংখ্যানে এই সংখ্যাটি ৮৯টি বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। এএফপি এবং টাইমস অব ইন্ডিয়ার সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে। ক্রিকেট বিশ্বে স্পিন বিভাগে শৃঙ্খলা ও নিখুঁত লাইন-লেন্থের জন্য পরিচিত বোলারদের তালিকায় এই পরিসংখ্যান বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় চলমান টেস্টে জাদেজার নো বলের এই প্রবণতা আরও একবার স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ম্যাচের প্রথম ইনিংসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বোলিং করার সময় জাদেজা মোট ৩টি নো বল করেন। এরপর চলমান কলম্বো টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি আরও ১টি নো বল করেন। শুধু জাদেজা একা নন, এই টেস্টে সামগ্রিকভাবে ভারতের বোলিং আক্রমণ থেকে বেশ কিছু অতিরিক্ত বল ও রান এসেছে। চলমান কলম্বো টেস্টে ভারতের বোলিং আক্রমণের মোট নো বলের সংখ্যা ১২টি। এর মধ্যে অফ স্পিনার সারাংশ জৈন একা করেছেন ৭টি নো বল।
জাদেজার এই দীর্ঘমেতি নো বলের রেকর্ডের পাশে অন্য বোলারদের পরিসংখ্যানও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। ২০২১ সাল থেকে শুরু করে এই তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নো বল করার রেকর্ডটি রয়েছে নোমান আলীর, যার মোট নো বলের সংখ্যা ৪০টি। এর আগে গল টেস্টেও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে জাদেজা ৪টি নো বল করেছিলেন। উল্লেখ্য, ২০২০ সালের শেষ দিকে ইংল্যান্ড ও পাকিস্তান টেস্ট সিরিজ থেকে মাঠের আম্পায়ারদের পরিবর্তে টিভি আম্পায়ারদের নিখдুঁতভাবে নো বল ডাকার দায়িত্ব দেওয়া হয়। টিভি আম্পায়ার দিয়ে নো বল দেখার এই নিয়ম চালুর আগপর্যন্ত রবীন্দ্র জাদেজার মোট নো বলের সংখ্যা ছিল ১৮টি।
বারবার নো বল করার এই সমস্যা নিয়ে মুখ খুলেছেন ভারতের স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলে। তিনি সংবাদমাধ্যমকে এই বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, বিষয়টি নিয়ে তারা কাজ করছেন। মাঝেমধ্যে এটি আসলেই উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। তবে বোলার যখন নিজের সর্বোচ্চ নিংড়ে দেন এবং এমন পরিস্থিতিতে উইকেট পান, যখন উইকেট পাওয়া যাচ্ছিল না, তখন তাঁর মধ্যে একটু বেশি জোরে বল করার প্রবণতা দেখা যায়। তবে এটি কোনো অজুহাত হতে পারে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
সমস্যার গভীরে গিয়ে সাইরাজ বাহুতুলে আরও জানান যে, জাদেজা ও জৈনের সঙ্গে বোলারদের ল্যান্ডিং পয়েন্ট বা ক্রিজ ছাড়ার বিষয়গুলো নিয়ে প্রচুর কাজ করা হয়েছে। কিন্তু কখনো কখনো নির্দিষ্ট বলে বাড়তি জোর প্রয়োগ করতে গিয়ে তারা লাইন ছাড়িয়ে বা ক্রিজের বাইরে চলে যান। এই বাড়তি চাপের কারণে বোলাররা অজান্তেই পা বাড়িয়ে ফেলেন, যা দলগুলোর জন্য বাড়তি রান ও বলের বোঝা হয়ে দাঁড়ায়।
এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য একটি যুগান্তকারী পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের স্পিন বোলিং কোচ সাইরাজ বাহুতুলে। ওয়ানডে ও টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের মতো টেস্ট ক্রিকেটেও ফ্রি হিট নিয়ম চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তিনি বলেন, ফ্রি হিট থাকলে নিশ্চিতভাবেই নো বল কমে যাবে। কোনো দলই নো বল করে অতিরিক্ত বল ও রান উপহার দিতে চাইবে না। বিসিসিআইয়ের অধীন এই বোলারদের নিয়ে কোচিং স্টাফরা কাজ চালিয়ে গেলেও আইসিসি বা সংশ্লিষ্ট মহলে এই ধরনের নিয়মের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।








