টেলিকমে বিদেশি মালিকানার সীমা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর
টেলিকম খাতে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর প্রস্তাবিত মালিকানার সীমা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। ঢাকা থেকে প্রকাশিত সংবাদমাধ্যম ‘টেকশহর’-এর তথ্যে এই বিষয়গুলো উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে টেলিকমে বিদেশি বিনিয়োগের ওপর প্রস্তাবিত মালিকানার সীমা পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এই চিঠিটি দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের টেলিযোগাযোগ খাতের নীতিমালা ও বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে এই চিঠিটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
প্রস্তাবিত ‘টেলিকমিউনিকেশন্স নেটওয়ার্ক অ্যান্ড লাইসেন্সিং পলিসি, ২০২৫’-এ বিদেশি মালিকানার সর্বোচ্চ সীমা ৮০ শতাংশ এবং দেশীয় অংশীদারিত্বের বাধ্যবাধকতা ২০ শতাংশ রাখা হয়েছে। এর আগে বিদেশি মালিকানার সর্বোচ্চ সীমা ৮৫ শতাংশ এবং দেশীয় অংশীদারিত্বের বাধ্যবাধকতা ১৫ শতাংশ ছিল। এই নতুন নীতিমালা এবং মালিকানার সীমা নির্ধারণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া ও মতামত লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দেশের টেলিযোগাযোগ বাজারে বর্তমানে বেশ কয়েকটি বড় অপারেটর কাজ করছে। এর মধ্যে গ্রামীণফোনে স্থানীয় শেয়ার রয়েছে ৩৪.২% এবং এই শেয়ারের অংশীদার হিসেবে রয়েছে গ্রামীণ টেলিকম। এছাড়া এই খাতে আজিয়াটা গ্রুপ বারহাদ, রবি, ভিওন, বাংলালিংক, টেলিনর এবং ইডটকোর মতো বড় বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও গ্রুপ যুক্ত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্র ও প্রতিনিধিরা এই বাজারের বিভিন্ন দিক নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেছেন।
এই বিষয়ে বিটিআরসির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. এমদাদ উল বারী (অব.) স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে টেলিকম খাতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শেয়ারের পার্সেন্টেজ কত হবে, এটি তারা আগেও ডিটারমাইন করতে চাননি এবং এটির সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয় নেবে। তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে এই ব্যাপারটিতে বিটিআরসির এক্সপার্টিজ আসলে নেই এবং এটি একটি ফিন্যান্সিয়াল ব্যাপার। তার মতে, এটি ফিন্যান্স মিনিস্ট্রি ও কমার্স মিনিস্ট্রির অধিকার, এবং বিডা যারা বাইরের ইনভেস্টমেন্টের কথা চিন্তা করে, তাদের পাশাপাশি ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ সবার সঙ্গে কনসাল্ট করে একটি ডিসিশনে আসবে।
নীতিমালা প্রণয়ন ও অনুমোদনের প্রক্রিয়ার বিষয়ে টেকশহরের প্রতিবেদক রেহান আসিফ আসাদ জানান যে, চূড়ান্তভাবে আরও পর্যবেক্ষণ করে আগামী এক মাসের মধ্যে টেলিকম খাতের পলিসি ও গাইডলাইনগুলো অনুমোদন দিতে চান তারা। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত রূপরেখা পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এদিকে রবি’র করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের প্রধান সাহেদ আলম মোবাইল অপারেটরদের বিদেশি শেয়ার মালিকানার ওপর প্রস্তাবিত সীমা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বিদ্যমান অপারেটরদের এ ধরনের নতুন সীমাবদ্ধতার বাইরে রাখা উচিত, কারণ এটি পূর্ববর্তী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হলে বিদেশি বিনিয়োগ সুরক্ষা আইনের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তিনি আরও যোগ করেন যে এটি বাজারের ওপর ছেড়ে দেওয়া উচিত, কারণ রেগুলেশন দিয়ে রেস্ট্রিক্ট করলে বাজারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়, যা কোনো ক্ষেত্রেই কাম্য নয়।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমানও একই সুরে কথা বলেছেন। তিনি জানিয়েছেন যে বিদেশী বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এই ক্যাপিংয়ের বিষয়ে শুরু হতেই তারা আপত্তি জানিয়েছেন এবং এটি আসলে বিনিয়োগকারীদের উপরই ছেড়ে দেয়া উচিত। তিনি সরকারকে অনুরোধ করেছেন বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করার জন্য। সামগ্রিক এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, মালয়েশিয়ান হাইকমিশন, বিএনপি, এবং অন্যান্য অংশীজনদের পদক্ষেপের দিকেই এখন সবার নজর রয়েছে।








