জুলাই জাদুঘরের উপাদান গায়েব করা হয়েছে: জামায়াত আমির
রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সীরাতুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। এ সময় তিনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানকে চূড়ান্ত যুদ্ধের রিহার্সেল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অপরাধের দায় নিয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়া ব্যক্তিদের দেশে ফেরার সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

২৩ আগস্ট রোববার দুপুরে রাজধানী ঢাকার ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে এক বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। পবিত্র সীরাতুন্নবী উপলক্ষে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সেমিনারে প্রধান অতিথি কিংবা প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য প্রদান করেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে ইসলাম ধর্মের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জীবন ও আদর্শের ওপর আলোচনা করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিগত সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি তার বক্তব্যে অভিযোগ করে বলেন যে, একটি বিশেষ রাষ্ট্রকে খুশি করার অসৎ উদ্দেশ্যে জুলাই জাদুঘর থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপাদান গায়েব বা সরিয়ে ফেলা হয়েছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে আনেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন যে, ২০২৪ সালের এই গণঅভ্যুত্থানটি ছিল মূলত একটি চূড়ান্ত যুদ্ধের রিহার্সেল মাত্র। দেশের জনগণের অধিকার আদায়ের এই আন্দোলনকে তিনি বড় কোনো সংগ্রামের প্রস্তুতি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।
এ সময় দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, বিভিন্ন অপরাধের দায়ভার কাঁধে নিয়ে যারা ইতোমধ্যে দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন বা চলে গেছেন, তাদের ভবিষ্যতে আর এই দেশে ফিরে আসার কোনো ধরনের সুযোগ নেই।
বর্তমান রাষ্ট্রের বিভিন্ন সূচকের করুণ দশা তুলে ধরে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন যে, একটি সভ্য দেশের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হলো দেশটির পাসপোর্টের মান ও অবস্থান। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, বর্তমান সময়ে পাসপোর্ট সূচকেও বাংলাদেশ যথেষ্ট পিছিয়ে রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২৩ আগস্টের এই সেমিনারে জামায়াত আমির শফিকুর রহমান ছাড়াও আরও বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও পন্ডিত উপস্থিত ছিলেন। সেমিনারে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক ড. আনম রফিকুর রহমান মাদানী, ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল এবং ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। এছাড়া অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনা এবং হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রসঙ্গ বিভিন্ন বক্তার আলোচনায় উঠে আসে।
বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের যৌথ উদ্যোগে কিংবা ব্যবস্থাপনায় রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের এই সীরাতুন্নবী (সা.) সেমিনারটি সম্পন্ন হয়। সেমিনারে জামায়াতের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থেকে পবিত্র সীরাতুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আয়োজিত এই আলোচনা সভার কার্যক্রম সফল করে তোলেন।








