জুলাই অভ্যুত্থানের বার্ষিকীতে ক্যাম্পাসে সংঘর্ষ ও নির্বাচন বিতর্ক
জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের সংঘর্ষে শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। একই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজন এবং প্রশাসকদের মেয়াদ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা বিতর্ক চলছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

জুলাই অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে দেশের কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এই বার্ষিকীর দিনেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল এবং বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আহত হয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী। অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বছরে এসে এমন অভ্যন্তরীণ ছাত্রসংঘাত সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষাঙ্গনের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন নিয়ে নতুন করে বিতর্ক ও আলোচনা শুরু হয়েছে। বিগত প্রায় দুই বছর ধরে দেশের স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচিত কোনো প্রতিনিধির অস্তিত্ব নেই। দীর্ঘদিন ধরে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়াই চলছে তৃণমূলের শাসনব্যবস্থা। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে সেবা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে এক ধরনের স্থবিরতা বিরাজ করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়ন পরিষদ চরম প্রশাসনিক শূন্যতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। একই সঙ্গে প্রায় ৩৩০টি পৌরসভা এবং প্রায় ৪৯৫টি উপজেলাও জননির্বাচিত নেতৃত্বহীন অবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া বগুড়াসহ মোট ১৩টি সিটি করপোরেশনও বর্তমানে কোনো নির্বাচিত মেয়র বা পরিষদের অধীনে নেই। ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সিংহভাগই বর্তমানে সরকার নিযুক্ত প্রশাসকদের প্রত্যক্ষ অধীন পরিচালিত হচ্ছে।
প্রশাসক নির্ভর এই দীর্ঘমেয়াদী শাসন ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য নির্বাচন কমিশন এখন নতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন আগামী আগস্ট মাসের দ্বিতীয়ার্ধে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করার চিন্তাভাবনা করছে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকেই প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ শুরু করতে চায় কমিশন।
তবে এত বিপুল সংখ্যক স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন সম্পন্ন করা সহজ কোনো কাজ নয়। নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সবকটি ধাপের ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ করতে প্রায় ১০ থেকে ১২ মাস সময় লেগে যেতে পারে। অর্থাৎ পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হতে আগামী বছর পর্যন্ত গড়াতে পারে।
এদিকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যে তোফায়েল আহমদের নেতৃত্বে গঠিত স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন কাজ করেছে। এই সংস্কার কমিশন সরকারের কাছে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার সংস্কারের জন্য একগুচ্ছ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশমালা পেশ করেছিল। এই সুপারিশগুলোর বাস্তবায়ন এবং নির্বাচন আয়োজনের সময় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে নানা ধরনের সমীকরণ ও বিতর্ক দেখা দিয়েছে।








