জিন্নাহর চিকিৎসকদের পাকিস্তানের বেসামরিক পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন
মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর ফুসফুসের যক্ষ্মা রোগ ১৯৪৬ সালে গোপন রাখা চিকিৎসকদের পাকিস্তানের বেসামরিক পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। ড. ল রতনজি প্যাটেল এবং ড. জল ডেবু নামের দুই পার্সি ডাক্তারকে এই সম্মাননা দেওয়া হচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

পাকিস্তান সৃষ্টির দীর্ঘ ৭৯ বছর পর দেশটির পক্ষ থেকে এক ঐতিহাসিক স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর ফুসফুসের যক্ষ্মা রোগ তৎকালীন সময়ে অত্যন্ত গোপনে রাখা দুই চিকিৎসকে পাকিস্তানের বেসামরিক পুরস্কারের জন্য মনোনীত করা হয়েছে। পাকিস্তান সরকার এই দুই পার্সি ডাক্তারকে 'নিশান-ই-কায়েদ-ই-আজম' বেসামরিক পুরস্কারের জন্য মনোনীত করেছে।
ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে জানা যায়, মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর ফুসফুসের যক্ষ্মা রোগ হয়েছিল, যা তার চিকিৎসকরা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে গোপন রেখেছিলেন। এই ঘটনার ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে আহসান ইকবাল বলেছেন, এটি এমন একটি গোপন বিষয় ছিল, যাকে অনেক ঐতিহাসিক বিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ইতিহাস সৃষ্টিকারী গোপন তথ্য বলে মনে করেন।
আহসান ইকবাল আরও উল্লেখ করেন, মি. জিন্নাহর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ এবং ব্রিটিশ শাসকরা যদি তার অসুস্থতার কথা জানতে পারতেন, তাহলে হয়তো ভারতের বিভাজন বিলম্বিত হতো এবং পাকিস্তান সৃষ্টিও বিপন্ন হতে পারত। এই গোপনীয়তার পেছনের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে আকবর আহমেদ বলেছেন, জিন্নাহর সুন্দর পোশাক এবং সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিত্ব এই সত্যটি আড়াল করে রেখেছিল যে তার শারীরিক স্বাস্থ্য ভালো ছিল না।
জিন্নাহর অসুস্থতার সূচনা সম্পর্কে আকবর আহমেদ জানান, ১৯৩৮ সাল থেকে তিনি তার স্নায়ু এবং শারীরিক শক্তির উপর প্রচণ্ড চাপের কথা বলে আসছিলেন। এরপর তিনি প্রায়েই অসুস্থ হতে শুরু করেন, তবে তার এই অসুস্থতার কথা গোপন রাখা হয়েছিল। এই চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন ড. দিনশা মেহতা, মিজ. ফাতিমা ও মিজ. হোমি। এছাড়া ল্যারি কলিন্স, ডমিনিক ল্যাপিয়ের এবং হেক্টর বলিথো এই ঐতিহাসিক অধ্যায়ের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেছেন।
১৯৪৬ সালের জুন মাসে ড. ল রতনজি প্যাটেল এবং ড. জল ডেবু জিন্নাহর এক্স-রে থেকে বুঝতে পেরেছিলেন যে রোগটি চরম পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ড. প্যাটেল তার চিকিৎসাসেবা সম্পর্কে বলেন, আমি তাকে ক্যালশিয়াম ভ্যাক্সিন, পুষ্টিকর ওষুধ আর শর্ট-ওয়েভ ডায়াথার্মি ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছিলাম। সংবাদ প্রকাশ নিয়ে একবার ড. প্যাটেল বলেছিলেন, কোন এক নির্বোধ এই খবরটা সংবাদপত্রকে দিয়েছে। অন্যদিকে রোগীর সেবা পাওয়ার পর মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ মন্তব্য করেছিলেন, যে লোক এত সেবা করল, তাকে আমার ধন্যবাদ জানানো উচিত।
এই পুরো বিষয়টি বিবিসি বাংলা-র মাধ্যমে এবং মুসলিম লীগ সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক কার্যক্রমে বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১৯৪৬ সালের সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর স্বাস্থ্য ও রোগ গোপনের বিষয়টি রক্ষা করা সেই চিকিৎসকদের অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে এবার পাকিস্তান সরকার তাদের বেসামরিক পুরস্কারের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে মনোনীত করল।








