জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬ নিয়ে অধিকারের শঙ্কা
অধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, এই আইন পাস হলে কমিশন সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

অধিকার সংগঠনের পক্ষ থেকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬-এর খসড়া নিয়ে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। সম্প্রতি একটি বিবৃতি দিয়ে এই উদ্বেগের কথা জানায় মানবাধিকার সংগঠনটি। তাদের মতে, প্রস্তাবিত এই আইন যদি শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংসদে পাস হয়, তবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করার পরিবর্তে পুরোপুরি সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতে পারে।
এর আগে গত ১০ আগস্ট অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনের এই খসড়াটি অনুমোদন করা হয়। দীর্ঘ ১৫.৫ বছর ফ্যাসিবাদী হাসিনার শাসনামলের পর বর্তমান প্রেক্ষাপটে মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও নতুন এই খসড়া আইন নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে। এর আগে ২০২৫ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল।
নতুন খসড়া আইনের ১৯ ধারা অনুযায়ী মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে কঠোরRestrictions রাখা হয়েছে। এই ধারা অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা এর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি মানবাধিকার লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ওঠে, তবে কমিশন নিজ উদ্যোগে প্রথমে সেই অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে না। মানবাধিকার সংগঠনের মতে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন বিধিষেধ থাকায় সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হতে পারে।
এছাড়া প্রস্তাবিত নতুন আইনে একটি বাছাই কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে। এই প্রস্তাবিত ৯ সদস্যের বাছাই কমিটিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সরকারের প্রভাবশালী ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে। বিশেষ করে এই কমিটিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার, সরকারের দুজন মন্ত্রী, সরকারি দলের একজন সংসদ সদস্য এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিবের মতো পদাধিকারীরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রস্তাবিত ৯ সদস্যের এই বাছাই কমিটির মধ্যে ৮ জনই সরাসরি সরকার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি। ফলে কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন তুলেছে অধিকার। সংগঠনটি মনে করছে, সরকারের এমন অতিমাত্রায় নিয়ন্ত্রণ থাকলে কমিশনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হবে।
সংগঠনটির মতে, ফ্যাসিবাদী হাসিনার দীর্ঘ ১৫.৫ বছর মেয়াদে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে যেভাবে দলীয়করণ করা হয়েছিল, তা থেকে বের হয়ে আসার সময় এসেছে। কিন্তু বর্তমান খসড়া আইনের বিভিন্ন ধারা ও বাছাই কমিটির গঠনপ্রক্রিয়া দেখলে মনে হয়, মানবাধিকার কমিশনকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিয়ে আগের মতো সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী পরিচালনার পথই সুগম করা হচ্ছে।
সারაკলে, মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের পক্ষ থেকে অবিলম্বে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন ২০২৬-এর খসড়াটির বিতর্কিত ধারাগুলো পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে তদন্তের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং বাছাই কমিটিতে সরকারি প্রভাব কমানোর জোরালো দাবি জানানো হয়েছে, যাতে কমিশন প্রকৃতপক্ষেই জনগণের অধিকার রক্ষায় নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারে।








