জয়পুরহাটে জিআই পণ্য লতিরাজ কচু চাষ ও বাজারজাতকরণে সংকট
জয়পুরহাটে জিআই পণ্য লতিরাজ কচুর বাম্পার ফলন হলেও সঠিক বাজারজাতকরণ ও স্থায়ী হাটের অভাবে সংকট তৈরি হয়েছে। কৃষকরা জানান, সরকারি-বেসরকারিভাবে কোনো হাট না থাকায় ভাড়া করা জায়গায় ব্যবসা করতে হচ্ছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

জয়পুরহাটের ঐতিহ্যবাহী 'লতিরাজ কচু' ভৌগোলিক নির্দেশক বা জিআই পণ্য হিসেবে দেশজুড়ে পরিচিতি লাভ করেছে। কৃষকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে চলতি মৌসুমে জেলার পাঁচটি উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ১২০৯ হেক্টর জমিতে লতিরাজ কচুর চাষাবাদ হয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে কচু চাষে আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা জানান, ২০১৭ সালে সরকার লতিরাজ কচুকে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। এর ফলে এই অঞ্চলের কৃষিপণ্যের ব্র্যান্ডিং ও কদর আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার পাঁচ উপজেলাজুড়ে উৎপাদিত এই কচু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করা হচ্ছে।
লাভজনক হওয়ায় কৃষকরা এই ফসল উৎপাদনে ঝুঁকছেন। হাফিজুর শেখ নামক এক চাষি লতিরাজ কচু চাষের সফলতার কথা জানিয়ে বলেন, 'লতিরাজ কচু চাষে খরচ কম, তবে লাভ বেশি। বাইরে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে আমরা আরও বেশি লাভ করতে পারব। এজন্য জেলায় বিক্রয়কেন্দ্র জরুরি।'
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এই চাষ কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে। মাঠপর্যায়ের হিসাব অনুযায়ী, এক বিঘা জমিতে কচুর চাষাবাদে খরচ হয়েছে ৪০-৫০ হাজার টাকা। আর উৎপাদিত কচু বিক্রি করে তারা লক্ষাধিক টাকার কচু ঘরে তুলেছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতিকেজির বাজারদর ৫০-৫২ টাকা রয়েছে।
তবে ভালো ফলন ও দাম পেলেও বিপণন প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের সংকট রয়েছে। লতিরাজ কচু জেলার ব্র্যান্ডিং পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও আজ পর্যন্ত জেলার কোথাও সরকারি-বেসরকারিভাবে কচুর লতি বেচাকেনার হাট-বাজার গড়ে ওঠেনি। ইউসুফ আলী মন্ডল, মমিজুল হক, এ কে এম সাদিকুল ইসলাম এবং কাশপিয়া তাসরিনসহ স্থানীয়রা এই সংকট নিরসনের দাবি জানিয়েছেন।
বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে বাজার পরিচালনা করছেন। এ বিষয়ে ব্যবসায়ী মমিজুল হক জানান, 'পাঁচবিবির বটতলীতে আমরা ব্যবসায়ীরা স্থানীয় কৃষকদের থেকে জায়গা ভাড়া করে নিয়ে হাট-বাজার বসাই। কিন্তু সেখানেও দিতে হয় জমা (টাকা)।' স্থায়ী কোনো বাজার না থাকায় প্রতিদিন ব্যবসায়ীদের নানা ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। উৎপাদিত জিআই পণ্য লতিরাজ কচুর সঠিক মূল্যায়ন এবং কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে দ্রুত একটি স্থায়ী সরকারি হাট বা বিক্রয়কেন্দ্র স্থাপনের জোরালো দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট চাষি ও ব্যবসায়ীরা।








