ছাত্রশিবিরের সংবাদ সম্মেলন: ১৫ বছরে ২৩৬ নেতা-কর্মী গুম
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। গত ১৫ বছরে সংগঠনের ২৩৬ জন নেতা-কর্মী গুমের শিকার হয়েছেন বলে এতে দাবি করা হয়।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। 'গুম ও নিপীড়নের খতিয়ান: ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ ও গুম প্রতিরোধে কার্যকর সংস্কারের দাবি' শীর্ষক এই সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে গত ১৫ বছরের গুম ও নিপীড়নের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিগত ১৫ বছরে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২৩৬ জন নেতা-কর্মী গুমের শিকার হয়েছেন। তবে যেসব ব্যক্তি বা পরিবার ভয়ে বা অন্য কোনো কারণে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি, তাদের হিসাব যুক্ত করলে এই প্রকৃত গুমের সংখ্যা ৭০০ ছাড়িয়ে যাবে বলে দাবি করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে এমন মোট ভুক্তভোগীদের মধ্যে ছাত্রশিবিরের হার ২৫ দশমিক ৪২ শতাংশ। এছাড়া গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে বর্তমানেও ছাত্রশিবিরের ৭ জন নেতা-কর্মী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এই গুমের ঘটনার পেছনে গোয়েন্দা পুলিশ, ডিবি, ডিজিএফআই, র্যাব এবং কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)-এর সম্পৃক্ততার অভিযোগের প্রেক্ষাপট উঠে আসে।
সংবাদ সম্মেলনে গুমের শিকার আল-মোকাদ্দাসের বাবা মাওলানা আবদুল হালিম উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, ২০১২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি রাতে তাঁর ছেলে আল-মোকাদ্দাস নিখোঁজ হন। এরপর ১৪ বছর ধরে তিনি ছেলের সন্ধানে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেছেন। র্যাবের বিভিন্ন ক্যাম্পে খোঁজ করার পাশাপাশি হাইকোর্টে রিটও করেছেন। ৫ আগস্টের পর ন্যায়বিচারের আশা করলেও এখনো তা পাননি। মাওলানা আবদুল হালিমের ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁর ছেলেকে র্যাবের উত্তর সদর দপ্তরে ১০ দিন আটকে রাখা হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নুরুল ইসলাম সাদ্দাম, মোহাম্মদ আবুজার গিফারী ও ওমর আলী। এছাড়া প্রথম আলো ও সমকালের মতো গণমাধ্যমের বিষয়গুলোও আলোচনায় এসেছে। গুমের এসব ঘটনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ও আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গও সামনে আসে।
জাতীয় পর্যায়ে গুমের সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, গুমবিষয়ক তদন্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি গুমের ঘটনায় প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংবাদ সম্মেলন থেকে গুম প্রতিরোধে কার্যকর সংস্কার এবং এসব ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানানো হয়।








