চট্টগ্রামে ১০ কোটি টাকার আকস্মিক বন্যা পুনর্বাসন প্রকল্প শুরু
চট্টগ্রাম অঞ্চলে এইচএসবিসির অর্থায়নে ও ব্র্যাকের বাস্তবায়নে ১০ কোটি টাকার ৭ মাস মেয়াদি আকস্মিক বন্যা পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (৩০ আগস্ট) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এই প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

চট্টগ্রাম অঞ্চলে আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য পুনর্বাসন সহায়তা প্রকল্পের উদ্বোধন করা হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং এইচএসবিসি ব্যাংকের অর্থায়ন ও ব্র্যাকের বাস্তবায়নে এই পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান যে, অতীতে সরকার, প্রাইভেট সেক্টর ও এনজিও সংস্থার কাজে সমন্বয় ছিল না। কিন্তু বর্তমান সরকার এসব পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন ও পুনর্গঠনে নিবিড়ভাবে কাজ করছে, তাদের উৎসাহ ও সহায়তা দিচ্ছে। ফলে দুর্নীতি হ্রাসসহ কাজ দ্রুত ও সঠিক হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন যে, সরকারের পক্ষে সব ক্ষেত্রে সরাসরি সেবা পৌঁছে দেওয়া সবসময় সহজ নয়। ডেলিভারি সিস্টেমে বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলো যুক্ত থাকলে কাজ একদিকে দক্ষতার সঙ্গে সম্পন্ন হয়, অন্যদিকে অপচয় ও দুর্নীতির সুযোগও কমে যায়। ফ্যামেলি কার্ড বিতরণের বিষয়ে তিনি জানান, ফ্যামেলি কার্ড বিতরণে আমরা কোনো অনিয়ম বরদাস্ত করিনি, কোনো রাজনীতি বা দলীয় পরিচয় খুঁজিনি। প্রকৃত হকদারদের মধ্যে ন্যায্যতার ভিত্তিতে ফ্যামেলি কার্ড বিতরণ করা হয়েছে এবং হচ্ছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মন্ত্রী বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে যাদের অংশগ্রহণ ও সম্পৃক্ততা বেশি আছে তারা এগিয়ে এলে দুর্নীতি কমার পাশাপাশি পুনর্বাসন কাজ অনেক সহজ হয়। তাই অন্য সংস্থাগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। উল্লেখ্য, এই পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় বেসরকারি খাত ও এনজিওর অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয় যে, ৭ মাস মেয়াদি এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১০ কোটি টাকা, যা সম্পূর্ণ অর্থায়ন করছে এইচএসবিসি ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। অনুষ্ঠানে মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা, ড. মো. জিয়াউদ্দিন, শরৎ কুমার চৌধুরী এবং মো. মাহবুবুর রহমানসহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পটির কাজের পরিধি সম্পর্কে জানানো হয়েছে যে, এটি চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী ও সাতকানিয়া উপজেলা, কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগরের ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন এলাকায় পরিচালিত হবে। আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক করতে এবং তাদের পুনর্বাসনে এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।








