চট্টগ্রামে বন্যায় মৎস্য খাতে ২১০ কোটি টাকার ক্ষতি, দাম চড়া
সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রামে মৎস্য খাতে প্রায় ২১০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এর ফলে বাজারে মিঠা পানির মাছের সরবরাহ কমে দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের দ্রুত তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক বন্যায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার পুকুর, দীঘি ও মাছের ঘের তলিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের ফলে স্থানীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিশেষ করে জেলার মৎস্য খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বন্যায় মৎস্য খাতে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২১০ কোটি টাকা। এই বিশাল অংকের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
<প>সরকারি তথ্য অনুযায়ী, বন্যায় ২৩ হাজার ৬১০টি পুকুর, দীঘি ও খামার এবং ৭৮৯টি মাছের ঘের ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে শুধু পটিয়ায় ১ হাজার ৪৩৫টি পুকুর ও দীঘি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। ক্ষতিগ্রস্ত খামারি আব্দুল সবুর জানিয়েছেন, বন্যার পানিতে পুকুরের মাছের বড় একটি অংশ ভেসে গেছে এবং যেসব মাছ রয়ে গেছে, সেগুলোর অনেকগুলো এখন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। তার কার্প জাতীয় সব মাছ মারা গেছে উল্লেখ করে তিনি জানান, বন্যার পর দ্রুত মৎস্য কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রয়োজন হলেও তা পর্যাপ্তভাবে পাওয়া যাচ্ছে না এবং তার এক পুকুর মাছ মরে যাওয়ায় প্রায় ৪ লাখ টাকার ক্ষতি হবে।<প>দক্ষিণ চট্টগ্রামের মৎস্য খাতের এই করুন অবস্থার বিষয়ে শাহ আমানত মৎস্য গদির মোশাররফ হোসেন সোহেল বিস্তারিত তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, গত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে চাষিরা পুকুর ও মাছের প্রকল্পে পোনা অবমুক্ত করেছিলেন এবং বন্যার সময় এসব মাছ বাজারজাত করার উপযোগী হচ্ছিল। কিন্তু বন্যার পানিতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অধিকাংশ পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে এবং তাদের আশঙ্কাই এখন সত্যি হচ্ছে। তিনি আরও জানান, তাদের আড়তে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ টাকার মিঠা পানির মাছ বিক্রি হয়, যা এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে।<প>উৎপাদন ও সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় বাজারে মিঠা পানির মাছের দাম বেড়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। ঢাকা পোস্টের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে বাজারে বড় আকারের কাতল মাছ ৭০০ টাকা কেজি, ছোট আকারের কাতল ৪৫০ টাকা এবং রুই মাছ ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া গুলশা মাছ ১ হাজার ১০০ টাকা, পাবদা মাছ ৪০০ টাকা এবং তেলাপিয়া মাছ ৩০০ টাকা কেজি দरे বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে ক্রেতাদের অতিরিক্ত দামে মাছ কিনতে হচ্ছে।<প>এই সংকটময় পরিস্থিতিতে সরকারের পক্ষ থেকে তৎপরতা শুরু হয়েছে। মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু চট্টগ্রাম সফর করে ক্ষতিগ্রস্ত খামারিদের দ্রুত তালিকা প্রস্তুতের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেছেন, উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে রেণু ও পোনা উৎপাদন বাড়বে, ফলে মাছের ঘাটতিও ধীরে ধীরে কমে আসবে।<প>অন্যদিকে চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসের সালমা বেগম জানিয়েছেন, বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে এই মৎস্য খাতে। তবে তারা মৎস্য চাষিদের ঘুরে দাঁড়াতে কাজ করছেন এবং আশা প্রকাশ করছেন যে মাছ উৎপাদন এই সংকট কাটিয়ে উঠবে। চাষিদের পুনর্বাসন এবং উৎপাদন স্বাভাবিক করার মাধ্যমেই কেবল এই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।







