ঘরোয়া ক্রিকেটে পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি বাড়াল বিসিবি
ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। এর ফলে প্রথম শ্রেণি, লিস্ট-এ এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে পুরুষ ও নারী উভয় ক্রিকেটারেরই ম্যাচ ফি দ্বিগুণ বা তার বেশি বৃদ্ধি করা হয়েছে। বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল এই তথ্য জানিয়েছেন।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী পুরুষ ও নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেটে এই বড় সিদ্ধান্তটি এসেছে, যার ফলে ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটারদের আর্থিক পারিশ্রমিক বহুগুণ বেড়ে গেল।
এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল জানান যে, ম্যাচ ফি নিয়ে তাদের বোর্ডে একটি বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, আগে প্রথম শ্রেণির চার দিনের ম্যাচে একজন খেলোয়াড় ৭০ হাজার টাকা করে ম্যাচ ফি পেতেন। তিনি অ্যাডহক কমিটিতে আসার পর গত এপ্রিলে সেটি ১ লাখ টাকা করেছিলেন। এরপর অবশ্য এখন পর্যন্ত একটি ম্যাচও হয়নি। তাই ৭০ হাজার টাকা ধরেই হিসাব করে তিনি জানান যে, এখন থেকে প্রথম শ্রেণির ম্যাচে একজন খেলোয়াড় ম্যাচপ্রতি ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাবেন।
পুরুষদের অন্যান্য ফরম্যাটের ম্যাচ ফি প্রসঙ্গে তামিম ইকবাল বলেন, ওয়ানডে ক্রিকেটে ম্যাচ ফি ছিল ৫০ হাজার টাকা, সেটি বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করা হয়েছে। এছাড়া টি-টোয়েন্টিতে আগে ৪০ হাজার টাকা করে পাওয়া যেত, এখন থেকে সেখানে ম্যাচপ্রতি ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।
নারী ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফি-ও একইভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। নারী ক্রিকেটের আর্থিক অবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে এই পদক্ষেপে তিন দিনের ম্যাচের ফি বাড়ানো হয়েছে। এই প্রসঙ্গে তামিম ইকবাল বলেছেন, তিন দিনের ম্যাচে আগে ২০ হাজার টাকা ছিল। তারা আলোচনা করছেন এটিকে চার দিনের ম্যাচে রূপান্তর করা যায় কি না, যাতে খেলোয়াড়েরা টেস্ট ক্রিকেটের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারেন। এই ২০ হাজার টাকা এখন বাড়িয়ে ৪০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
নারী ক্রিকেটের সীমিত ওভারের ম্যাচগুলোর ফি সম্পর্কে তিনি আরও জানান, লিস্ট-এ ক্রিকেটে যেটি ১৫ হাজার টাকা ছিল, সেটি করা হয়েছে ৩০ হাজার টাকা। আর টি-টোয়েন্টিতে ১০ হাজার টাকার ম্যাচ ফি বাড়িয়ে করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা।
সব মিলিয়ে এই পারিশ্রমিক বৃদ্ধির সার্বিক প্রভাব তুলে ধরে বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল বলেন যে, সব ক্ষেত্রেই ম্যাচ ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে, কোথাও কোথাও যা ১০০ শতাংশেরও বেশি। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এতে লাভটা কী? লাভটা হলো একজন ঘরোয়া ক্রিকেটার যদি পুরো মৌসুম খেলেন, তাহলে তার বেতনসহ হিসাব করলে বছরে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা আয় করার সুযোগ তৈরি হবে, তার হিসাব ভুল না হলে। সেটিকে ১২ মাসে ভাগ করলে একজন ক্রিকেটারের মাসিক আয় দাঁড়াবে ৩ লাখ টাকার বেশি।
এদিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের এই নানা কাঠামোগত পরিবর্তনের মাঝে এবারের বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) হচ্ছে না বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে। সার্বقভাবে ঘরোয়া ক্রিকেটের এই ম্যাচ ফি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত দেশের খেলোয়াড়দের আর্থিক সুরক্ষা ও পেশাদারিত্বের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে দেখছে সংশ্লিষ্টরা।








