গ্যাস সংকটে শিল্পে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার বৃদ্ধি
বাংলাদেশে গ্যাস সংকটের কারণে শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। আগস্ট ২০২৪ সালের প্রথম ১৫ দিনের তথ্যে এই চিত্র উঠে এসেছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে চলমান গ্যাস সংকটের কারণে দেশের শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বিভিন্ন কারখানায় বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ডিজেল ও ফার্নেস অয়েলের ব্যবহার ও চাহিদা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে অগ্নিদুর্ঘটনার পর এই গ্যাস সংকট আরও তীব্র আকার ধারণ করে। পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে দৈনিক প্রায় ২২২ কোটি ঘনফুটে নেমেছে, অথচ দেশের প্রকৃত চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট।
জ্বালানি তেলের বিপণনকারী রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আগস্ট ২০২৪ সালের প্রথম ১৫ দিনের বিক্রি পর্যালোচনায় এই চিত্র স্পষ্ট হয়েছে। এই সময়ে পদ্মা অয়েলের ডিজেল বিক্রি প্রায় ২৯ শতাংশ এবং ফার্নেস তেল বিক্রি ১৭৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ডিজেল বিক্রি প্রায় ২১ শতাংশ এবং ফার্নেস তেল বিক্রি ১৫২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া যমুনা অয়েলের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ডিজেল বিক্রি ৩৩ শতাংশ এবং শিল্প ও বিদ্যুৎকেন্দ্রে ফার্নেস বিক্রি ২২৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
চলতি আগস্টের প্রথম ১৫ দিনে দেশে মোট ১ লাখ ৭৯ হাজার ৫৩৮ টন ডিজেল বিক্রি হয়েছে, যার দৈনিক গড় ছিল প্রায় ১১ হাজার ৯৬৯ টন। পাশাপাশি এই একই সময়ে ৬৬ হাজার ৬৮৮ টন ফার্নেস তেল বিক্রি হয়েছে, যার দৈনিক গড় ছিল প্রায় ৪ হাজার ৪৪৬ টন। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এবং সংশ্লিষ্ট তেল বিপণন কোম্পানির সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে জ্বালানি তেলের বাড়তি চাহিদা পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা। পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান জানিয়েছেন, গ্যাস-সংকটের কারণে শিল্পকারখানা থেকে জ্বালানি তেলের চাহিদা বেড়েছে। বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ ঢাকার আশপাশের শিল্পাঞ্চলে এর চাপ বেশি। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছে।
একইভাবে মেঘনা পেট্রোলিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহীরুল হাসান বলেছেন, শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়তি চাহিদা এলেও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। ঢাকা অঞ্চলে এই বাড়তি চাহিদা তুলনামূলক বেশি এবং বিশেষ করে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেই এই তেলের চাহিদা বেড়েছে। এই তালিকায় রয়েছে বিএসআরএম, ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল, বেঙ্গল গ্লাস, আল-মুসলিম গ্রুপ, একমি ল্যাবরেটরিজ, যমুনা গ্রুপ, এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যাল, ফার ইস্ট নিটিং অ্যান্ড ডাইং ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ক্রাউন ওয়্যারস (প্রাইভেট) লিমিটেডের মতো বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান।
ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে জ্বালানি তেলের এই বাড়তি চাহিদার সুনির্দিষ্ট চিত্রও পাওয়া গেছে। আগস্ট ২০২৪ সালের প্রথম ১৫ দিনে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডিজেল নেওয়ার পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এর মধ্যে ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যালের ডিজেল নেওয়া বেড়েছে প্রায় ৬৭ শতাংশ, বেঙ্গল গ্লাসের প্রায় ১৩৩ শতাংশ, আল-মুসলিম গ্রুপের একেএম নিটওয়্যারের ২০০ শতাংশ, একমি ল্যাবরেটরিজের প্রায় ৩০৬ শতাংশ, যমুনা গ্রুপের ৩৫০ শতাংশ এবং এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালের ডিজেল নেওয়া বেড়েছে প্রায় ৭০০ শতাংশ। এছাড়া মো. মনজুর আলম প্রধানসহ সংশ্লিষ্ট খাতের অন্যান্য প্রতিনিধিরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।








