গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের উৎপাদন ব্যাহত
তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের মুখে পড়ে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির উৎপাদন ও আর্থিক কার্যক্রম। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১২ ঘণ্টাই বিদ্যুৎ না পাওয়ায় কোম্পানিটির উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ অব্যবহৃত থাকছে এবং বড় অংকের আর্থিক লোকসানের মুখে পড়তে হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১২· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চরম চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসি। এই জ্বালানি সংকটের সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কোম্পানিটির সামগ্রিক উৎপাদন এবং আর্থিক পারফরম্যান্সের ওপর। ফার গ্রুপের আওতাধীন এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে তাদের দৈনিক উৎপাদন সক্ষমতার মাত্র প্রায় ৬০ শতাংশ ব্যবহার করে সুতা উৎপাদন করতে বাধ্য হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সংকটের ফলে কোম্পানির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে বড় ধরনের স্থবিরতা নেমে এসেছে।
প্রতিষ্ঠানটির অপারেশনাল কার্যক্রমে দেখা গেছে, কোম্পানির দুটি উৎপাদন ইউনিটে মোট প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার স্পিন্ডল রয়েছে। এই বিশাল অবকাঠামোর বিপরীতে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের দৈনিক সুতা উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৭০ টন। তবে বর্তমান গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের কারণে বাস্তবে দৈনিক উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র প্রায় ৪২ টনে। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন থেকে ছিটকে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি, যা তাদের ব্যবসায়িক ভিত্তিকে দুর্বল করে দিচ্ছে।
উৎপাদন কার্যক্রমে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে বিকল্প ব্যবস্থার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের নিজস্ব ৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা রয়েছে। এই সোলার সিস্টেম থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ থেকে গড়ে প্রায় ৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নিয়মিতভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়। তা সত্ত্বেও মূল গ্রিড ও গ্যাস সংযোগের চরম অস্থিরতার কারণে কারখানার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চলমান এই সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে কোম্পানির সুদীপ বণিক জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে। এর ফলে তাদের উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় প্রায় ১২ ঘণ্টাই তারা পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ পাচ্ছেন না। বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকলেও শ্রমিকদের নিয়মিত বেতনসহ অন্যান্য সব স্থায়ী ব্যয় কোম্পানিকে বহন করতে বাধ্য হতে হচ্ছে এবং গত এক বছর ধরে তারা এই মারাত্মক সমস্যার মধ্য দিয়েই ব্যবসা পরিচালনা করে চলেছেন।
জ্বালানি সংকটের এই ধাক্কা স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে কোম্পানিটির আর্থিক প্রতিবেদনে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজের আয় হয়েছে প্রায় ২৫৭ কোটি টাকা। তবে একই সময়ে উৎপাদন খরচ ও অন্যান্য সংকটের চাপে কোম্পানিটির নিট লোকসান হয়েছে প্রায় ৬৫ কোটি টাকা। এতে শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ১৬ পয়সা। এছাড়া মার্চ ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য বা এনএভি নেমে দাঁড়িয়েছে ৭ টাকা ৯২ পয়সায়।
পরিস্থিতির আরও অবনতি লক্ষ্য করা যায় শেষ প্রান্তিকের হিসাবগুলোতে। শুধুমাত্র জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে কোম্পানিটির আয় হয়েছে প্রায় প্রায় ৫৬ কোটি টাকা। কিন্তু এই প্রান্তিকটিতেও লোকসান এড়ানো সম্ভব হয়নি, বরং এই সময়ে প্রায় ২১ কোটি টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে। সব মিলিয়ে বিভিন্ন প্রান্তিকের পুঞ্জীভূত লোকসানের পরিমাণ এখন দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮ কোটি টাকায়।
তবে এত প্রতিকূলতার মাঝেও কিছু ইতিবাচক দিকের কথা তুলে ধরেছেন সুদীপ বণিক। তিনি জানান, তাদের উৎপাদিত পণ্যের দাম প্রায় ২০ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ভারতের অ্যান্টি-ডাম্পিং ব্যবস্থার চাপ কিছুটা কমেছে এবং সরকার রপ্তানি প্রণোদনা ১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করেছে। সুদীপ বণিকের মতে, অদূর ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও তাদের ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। উল্লেখ্য, এই সংকট মোকাবিলায় ও ব্যবসার পরিধি বাড়াতে তাদের দ্বিতীয় উৎপাদন ইউনিটে প্রায় ১০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে।








