খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা উচিত: তামিম ইকবাল
ক্রীড়াভিত্তিক পডকাস্ট ‘নট আউট নোমান’-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ক্রিকেটীয় আলোচনা ও রাজনীতি প্রসঙ্গে কথা বলেছেন বিসিবি ও আইসিসির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তামিম ইকবাল। তিনি জানান, অতীতে বিসিবি ও আইসিসির আলোচনা প্রসঙ্গে অনেক গোপন বিষয় জানালেও মানুষ অবাক হবে, তবে সম্মান বজায় রাখতে তিনি তা প্রকাশ করতে পারছেন না। এছাড়া বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ খেলা এবং খেলাধুলাকে রাজনীতিমুক্ত রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
প্রকাশ: · ১ মিনিট পড়া

ক্রীড়াভিত্তিক পডকাস্ট ‘নট আউট নোমান’-এ দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে অতীতে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ক্রিকেটীয় আলোচনা এবং খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতি মেলানোর প্রসঙ্গ নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন তামিম ইকবাল। এই সাক্ষাৎকারে তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) বিভিন্ন বিষয় ও তৎকালীন নানা ঘটনা নিয়ে নিজের মতামত তুলে ধরেন। পডকাস্টটিতে দেওয়া তার মন্তব্যগুলো দেশের ক্রিকেটাঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সাক্ষাৎকারে অতীতে বোর্ডের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের আলোচনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তামিম ইকবাল জানান, তিনি এখন আইসিসিতে আছেন এবং বিসিবির কারণেই আইসিসির সদস্য হয়েছেন। অতীতের সেই আলোচনার সময়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি এখন আইসিসিতে আছি, বিসিবির কারণেই আমি আইসিসির সদস্য। ওই আলোচনার সময় অনেক কিছু বলা হয়েছে, অনেক কিছু করা হয়েছে। যদি সেগুলো প্রকাশ করি, আপনারা অবাক হয়ে যাবেন। কিন্তু আমি সেগুলো প্রকাশ করতে পারবো না। কারণ আমাকে সেই সম্মানটা বজায় রাখতে হবে। কী কী কথা বলা হয়েছিল, তা জানলে আপনারা অবাক হবেন। তবে আমরা সেই আলোচনায় যেতে চাই না।’
তৎকালীন সময়ে নিজেদের অবস্থান ও পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তামিম বলেন, ওই সময়ে তারা বাইরে ছিলেন এবং তারা মতামত দিতে পারতেন। তবে যারা তখন বিষয়টি নিয়ে কাজ করছিলেন, তাদের কাছে সব ধরনের তথ্য ও উপাত্ত ছিল। বর্তমান পরিস্থিতি ও অতীত ঘটনার তুলনামূলক বিশ্লেෂণ করে তিনি উল্লেখ করেন, এখন যখন শোনা যায় অমুক কথা হয়েছে বা তমুক ঘটনা ঘটেছে, তখন সবকিছু বিশ্লেষণ করার পর তার মনে হয় বিষয়টি আরও সতর্কভাবে ও আরও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সামলানো যেত।
বাংলাদেশ দলের বিশ্বকাপ খেলার প্রসঙ্গ টেনে তামিম ইকবাল সুনির্দিষ্টভাবে জানান, যখনই এই প্রসঙ্গ আসে, তিনি সবসময় একই কথা বলেন। তার মতে, বাংলাদেশ দলের অবশ্যই বিশ্বকাপে খেলা উচিত ছিল এবং এই বিষয়ে আরও ভালোভাবে আলোচনা করা উচিত ছিল। তিনি জানান যে তিনি অনেক কিছু জানলেও তা প্রকাশ করতে পারছেন না।
সাক্ষাৎকারের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল খেলাধুলার সঙ্গে রাজনীতির সম্পর্ক নিয়ে তার মূল্যায়ন। খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘খেলাধুলাকে রাজনীতি থেকে দূরে রাখা উচিত। প্রথম দিনই যদি আপনি এমন একটা জায়গায় চলে যান, যেখান থেকে আর ফেরার সুযোগ নেই, তাহলে সমাধান আসবে না।’
নিজের এই বক্তব্যের সমর্থনে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের একটি উদাহরণ টেনে তামিম বলেন, কিছু ক্ষেত্রে খেলাধুলাকে খেলাধুলাই থাকতে দেওয়া উচিত। সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নানা ঘটনার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধের মধ্যেও ইরান যুক্তরাষ্ট্রে খেলতে গিয়েছিল। তার মতে, বিষয়টি এর চেয়েও অনেক বড় ছিল কারণ তখন যুদ্ধ চলছিল এবং তার মূল কথাটি ঠিক সেখানেই নিহিত।
কোন দেশ কার সাথে খেলবে বা কোন দেশে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে—এসব বিস্তারিত বিষয়ে তিনি যেতে চাননি। তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে কিছু ক্ষেত্রে খেলাধুলাকে খেলাধুলা হিসেবেই দেখা উচিত। দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, মানুষ কখনো কখনো এই সীমার মধ্যে থাকতে পারে না এবং খেলাধুলার সঙ্গে অন্যান্য অপ্রাসঙ্গিক বিষয় টেনে আনে। এই দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে তামিম ইকবালের এসব মন্তব্য দেশের ক্রিকেট ও ক্রীড়া কূটনীতির নানা অন্দরমহলের সমীকরণ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ করে দিয়েছে।








