খাগড়াছড়িতে বারি কর্তৃক কফির দুটি নতুন জাত উদ্ভাবন
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) খাগড়াছড়িতে কফির নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন করেছে। প্রায় আড়াই দশকের গবেষণার ফলস্বরূপ পাহাড়ি অঞ্চলে কফি চাষের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
প্রকাশ: · আপডেট: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৬:১৬· ১ মিনিট পড়া

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) খাগড়াছড়িতে কফির নতুন দুটি জাত উদ্ভাবন করেছে। ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আড়াই দশকের গবেষণার মাধ্যমে এই সফলতা অর্জিত হয়েছে, যা পাহাড়ি অঞ্চলে কফি চাষের নতুন সম্ভাবনা উন্মোচন করেছে।
এই দীর্ঘ গবেষণার অংশ হিসেবে ২০২৩ সালে 'বারি কফি-১ (রোবাস্টা)' এবং ২০২৫ সালে 'বারি কফি-২ (অ্যারাবিকা)' জাত দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে অবমুক্ত করা হয়। এসব জাত পাহাড়ি অঞ্চলের আবহাওয়া ও মাটির উপযোগী করে প্রস্তুত করা হয়েছে।
উদ্ভাবিত জাতগুলোর প্রসার ঘটাতে পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র, খাগড়াছড়ি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই কেন্দ্র থেকে ২০২১ সাল থেকে কৃষকদের মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩০০টি কফির চারা বিতরণ করা হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে চাষাবাদ বাড়াতে সহায়তা করছে।
কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, পাহাড়ি অঞ্চলে কফি চাষের অর্থনৈতিক গুরুত্ব অনেক। পূর্ণবয়স্ক একটি কফি গাছ থেকে বছরে প্রায় ৩ থেকে ৪ কেজি কফি বীজ পাওয়া যেতে পারে। এছাড়া উৎপাদিত কফি বীজের দাম প্রতি কেজি প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
কফি চাষের সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে ড. মো. আব্দুস সাত্তার বলেন, "দেশে কফির চাহিদা বাড়ছে এবং বাজারের একটি বড় অংশ আমদানিনির্ভর। স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানি ব্যয় কমানোর পাশাপাশি মানসম্মত উৎপাদন ও প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে রপ্তানির সম্ভাবনাও তৈরি হতে পারে।"
খাগড়াছড়িতে কফির নতুন এই জাত উদ্ভাবন এবং চাষাবাদের বিস্তারে ড. মো. আলমগীর হোসেন ও ড. মো. আব্দুস সাত্তারের মতো গবেষকদের অবদান রয়েছে। তাদের এই উদ্যোগ দেশের কৃষি অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।








