ক্লডের টেক্সট ওয়াটারমার্কিং সিস্টেম আনল অ্যানথ্রপিক
ইইউ এআই অ্যাক্টের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চ্যাটবট ক্লডের টেক্সট ওয়াটারমার্কিং সিস্টেমের বিস্তারিত প্রকাশ করেছে অ্যানথ্রপিক। শুক্রবার প্রকাশিত এই সিস্টেমে গুগল ডিপমাইন্ডের সিন্থআইডি-টেক্সট পদ্ধতি ব্যবহার করা হবে।
প্রকাশ: · আপডেট: ২৬ আগস্ট ২০২৬, রাত ৭:১৩· ১ মিনিট পড়া

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক তাদের চ্যাটবট ক্লডের মাধ্যমে তৈরি করা টেক্সট ওয়াটারমার্ক করার নতুন পদ্ধতির বিস্তারিত প্রকাশ করেছে। ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট শুক্রবার প্রকাশিত একটি ব্লগ পোস্টে এই তথ্য জানানো হয়েছে। মূলত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বা ইইউ এআই অ্যাক্টের ট্রান্সপারেন্সি কোড বা স্বচ্ছতা বিধিমালা মেনে চলার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইইউ এআই অ্যাক্টের নিয়মকানুনগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে অ্যানথ্রপিক এই ওয়াটারমার্কিং সিস্টেমটি তৈরি করেছে। এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের জন্য প্রতিষ্ঠানটি ২০২৪ সালে গুগল ডিপমাইন্ডেরoutlined বা রূপরেখা দেওয়া সিন্থআইডি-টেক্সট পদ্ধতি ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে। এছাড়া ভবিষ্যতের ব্যবহারের জন্য একটি ওয়াটারমার্ক ডিটেকশন এপিআই বা এপিআই প্রকাশের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
নতুন এই ওয়াটারমার্কিং সিস্টেমের কার্যকারিতা সম্পর্কে অ্যানথ্রপিক জানিয়েছে যে, ওয়াটারমার্ক ব্যবহারের ফলে ক্লডের আউটপুটের মানে কোনো ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে না। কোম্পানির ভাষ্যমতে, একজন সাধারণ পাঠকের কাছে ওয়াটারমার্কযুক্ত কোনো প্রতিক্রিয়া বা টেক্সট ওয়াটারমার্কবিহীন টেক্সট থেকে সম্পূর্ণ অভিন্ন ও আলাদা করা অসম্ভব।
তবে এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। অ্যানথ্রপিকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সব শব্দ যদি ব্যবহারকারী বা অন্য কোনোভাবে পরিবর্তিত হয়, তবে ওয়াটারমার্ক যুক্ত করার মতো খুব সামান্য বা কোনো সুযোগই থাকে না। এই ধরনের ক্ষেত্রে টেক্সটটিকে আর আসলেই এআই-জেনারেটেড বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলা যায় কি না, তা নিয়েও যথেষ্ট বিতর্ক রয়েছে।
কোম্পানির মতে, কোডের ভেতরে থাকা বিভিন্ন মন্তব্য বা কমেন্টের মতো নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে শব্দের মধ্যে যত্রতত্র বা ইচ্ছামাফিক পছন্দের সুযোগ থাকলে সেখানে ওয়াটারমার্ক ব্যবহার করা সম্ভব। তবে সার্বিকভাবে প্রস্তুতকৃত প্রকৃত কোডের ওপর এর প্রভাব অত্যন্ত নগণ্য এবং বলাই চলে যে এর কোনো প্রভাবই পড়বে না।
উল্লেখ্য যে, এই প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও নীতিমালা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও প্রযুক্তি বিষয়ক প্ল্যাটফর্ম যেমন টেকক্রাঞ্চ, বিজনেস ইনসাইডার, রেডিট এবং সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক বা গবেষক অ্যান্থনি হা, লুকাস রোপেক, লোরেনজো ফ্রান্সেস্কি-বিচ্চিয়েরি, ইভান মেহতা, রাসেল ব্র্যান্ডম, আয়েশা মালিক ও জ্যাক হুইটেকার বিভিন্ন আলোচনা ও তথ্য তুলে ধরেছেন। এছাড়া গুগল ডিপমাইন্ড, প্যাংরাম, অ্যাপল, ডেল্টা ও ইউটিউবের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোর নামও এই সামগ্রিক প্রযুক্তি খাতের আলোচনার সঙ্গে জড়িত রয়েছে।
নতুন এই সিস্টেম চালুর পর এ বিষয়ে বিভিন্ন মহলে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। যেমন রেডিটের একজন পোস্টকারী মন্তব্য করেছেন যে, এই ধরনের প্রযুক্তি না চাওয়ার একমাত্র কারণ হতে পারে মানুষের সঙ্গে মিথ্যা বলা। অন্যদিকে বিজনেস ইনসাইডার সূত্রে জানা গেছে যে এ বিষয়ে ডজনখানেক আলোচনা বা মতামত রয়েছে। সব মিলিয়ে ইইউ-এর নির্দেশনা মেনে এআই খাতের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথে অ্যানথ্রপিকের এই পদক্ষেপ একটি বড় অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।








